ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

বিদ্যুতিক উপায়ে মাছ ধরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা: নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের মৎস্য সম্পদ এবং জলজ জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তী সরকার একটি যুগান্তকারী অধ্যাদেশ জারি করেছে। ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০’The Fish Protection and Conservation Act, 1950-এর সংশোধনী এনে এই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে নদী, নালা বা অন্য কোনো জলাশয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে বা ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ The Fish Protection and Conservation (Amendment) Ordinance, 2026 নামে এই অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম আজ মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধ্যাদেশ জারি করেন। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এই সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘জলাশয়’ শব্দটির সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, নদী, ঝর্ণা, মোহনা, খাল, বিল, হাওর, বাওড় ও হ্রদের মতো প্রাকৃতিক জলাশয়ের পাশাপাশি প্লাবনভূমি, পুকুর, দিঘি, ঘের এবং ঋতুগতভাবে ডুবে থাকা এলাকা বা জলাভূমিও এই আইনের আওতাভুক্ত হবে।

সংশোধিত আইনের ৩ নম্বর ধারায় মাছ শিকারের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ বা বিদ্যুৎ প্রবাহিত সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘অন্যান্য কার্যকর এলাকা-ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা’ বা ‘Other Effective Area-based Conservation Measures (OECMs)’ ঘোষণার নতুন বিধানও এই অধ্যাদেশে যুক্ত করা হয়েছে। OECMs বলতে এমন ভৌগোলিকভাবে সংজ্ঞায়িত এলাকাকে বোঝানো হয়েছে, যা সংরক্ষিত এলাকার বাইরেও জলজ জীববৈচিত্র্যের ইতিবাচক এবং দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

অধ্যাদেশে নতুন সংযোজিত ৪খ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় জলাশয়ে মৎস্য বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি বা ধ্বংস রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়াও, টেকসই মৎস্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সরকার বিশেষ নির্দেশনা জারি করার ক্ষমতা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতেই সরকার ১৯৫০ সালের পুরনো আইনটি সংশোধনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসেবা স্থবির বরিশালে: নির্বাচিত প্রতিনিধি শূন্যতায় চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

বিদ্যুতিক উপায়ে মাছ ধরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা: নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের মৎস্য সম্পদ এবং জলজ জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তী সরকার একটি যুগান্তকারী অধ্যাদেশ জারি করেছে। ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০’The Fish Protection and Conservation Act, 1950-এর সংশোধনী এনে এই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে নদী, নালা বা অন্য কোনো জলাশয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে বা ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ The Fish Protection and Conservation (Amendment) Ordinance, 2026 নামে এই অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম আজ মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধ্যাদেশ জারি করেন। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এই সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘জলাশয়’ শব্দটির সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, নদী, ঝর্ণা, মোহনা, খাল, বিল, হাওর, বাওড় ও হ্রদের মতো প্রাকৃতিক জলাশয়ের পাশাপাশি প্লাবনভূমি, পুকুর, দিঘি, ঘের এবং ঋতুগতভাবে ডুবে থাকা এলাকা বা জলাভূমিও এই আইনের আওতাভুক্ত হবে।

সংশোধিত আইনের ৩ নম্বর ধারায় মাছ শিকারের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ বা বিদ্যুৎ প্রবাহিত সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘অন্যান্য কার্যকর এলাকা-ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা’ বা ‘Other Effective Area-based Conservation Measures (OECMs)’ ঘোষণার নতুন বিধানও এই অধ্যাদেশে যুক্ত করা হয়েছে। OECMs বলতে এমন ভৌগোলিকভাবে সংজ্ঞায়িত এলাকাকে বোঝানো হয়েছে, যা সংরক্ষিত এলাকার বাইরেও জলজ জীববৈচিত্র্যের ইতিবাচক এবং দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

অধ্যাদেশে নতুন সংযোজিত ৪খ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় জলাশয়ে মৎস্য বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি বা ধ্বংস রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়াও, টেকসই মৎস্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সরকার বিশেষ নির্দেশনা জারি করার ক্ষমতা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতেই সরকার ১৯৫০ সালের পুরনো আইনটি সংশোধনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।