গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুই ফরাসি-ইসরাইলি নাগরিকের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যায় জড়িত থাকার’ সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে ফ্রান্স। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি বেসরকারি সংস্থার আইনজীবী জানিয়েছেন, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার ঘটনাকে সম্ভাব্যভাবে ‘গণহত্যায় সহযোগিতা’ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, এই প্রথম কোনো দেশ এমন অভিযোগে তদন্তের আওতায় আনল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ফরাসি গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই মাসে ‘ইসরাইল ইজ ফরেভার’ সংগঠনের সদস্য নিলি কুপফার-নাউরি এবং টিএসএভি ৯ গ্রুপের সদস্য র্যাচেল তৌইতুর বিরুদ্ধে এই তদন্ত শুরু হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এবং গত বছরের মে মাসে নিতজানা ও কেরেম শালোম সীমান্ত চৌকিতে গাজায় প্রবেশকারী ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন এই দুজন। পরোয়ানায় তাদের তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে, তবে গ্রেপ্তারির কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
নিলি কুপফার-নাউরির আইনজীবী অলিভিয়ার পার্দো দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের কর্মকাণ্ড ‘শান্তিপূর্ণ’ ছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল হামাসসহ অন্যান্য গোষ্ঠী কর্তৃক মানবিক সহায়তা ছিনতাইয়ের ঘটনার নিন্দা জানানো। তিনি আরও বলেন, গত বছরের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকেই এই গোষ্ঠীগুলো ত্রাণ সামগ্রীর অপব্যবহার করছে।
৩৪ বছর বয়সী র্যাচেল তৌইতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মানবিক সহায়তা সন্ত্রাসী সংগঠনের হাতে পড়ার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে ইসরায়েলি পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করাকে যদি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে ফ্রান্সের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।
অন্যদিকে, একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৫০ বছর বয়সী কুপফার-নাউরি ফরাসি তদন্তকে ‘ইহুদি-বিরোধী উন্মাদনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন এবং ফরাসি তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত।
তদন্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘গণহত্যায় জনসাধারণকে উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগে এই দুই কর্মীকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আরও একটি সূত্রের মতে, একই মামলায় আরও প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছর ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্রসহ আল-হক ও আল-মেজান নামের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযোগ দায়ের করেছিল। তাদের আইনজীবী ক্লেমেন্স বেকটার্ট বলেন, গণহত্যা আইনের আওতায় এটি একটি প্রথম ধরনের তদন্ত।
এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ফ্রাঙ্কো-ফিলিস্তিনি শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা এবং সেখানে অভিযানে অংশ নেওয়া দুই ফ্রাঙ্কো-ইসরাইলি সেনার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগেও ফ্রান্সে পৃথক মামলা চলমান রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























