ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

সুদানে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, মানবিক সংকট চরমে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

সুদানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। সোমবার দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে উভয় পক্ষ একে অপরের অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে। সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম দারফুরের জালিংগেই শহরে সেনাবাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। শহরটি বর্তমানে আরএসএফ-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর একটি ভবন থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখা যায়। সামরিক বাহিনীর দাবি, ভবনটি আরএসএফ-এর একটি অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কর্দোফানের ডিলিং শহরে আরএসএফ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী সেখানে আরএসএফ-এর দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে দেওয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। ড্রোনটি একটি সরকারি মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যালয়ে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে চলমান এই যুদ্ধে ডিলিং শহরটি অন্যতম প্রধান সংঘর্ষকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ডিলিংয়ের আশপাশে দুটি সরবরাহ পথ খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর সেনাবাহিনী দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে কাদুগলি শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ আনুমানিক ১ লাখ ৪৭ হাজার নাগরিক নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গত অক্টোবরে দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশের পতনের পর আরএসএফ এখন উর্বর ও বিস্তৃত কর্দোফান অঞ্চলের দিকে তাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) মহাসচিব জ্যান এগেল্যান্ড দক্ষিণ কর্দোফানের পরিস্থিতিকে ‘সুদানের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও উপেক্ষিত এলাকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অঞ্চলটি পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সেখানকার পুরো জনগোষ্ঠী চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে এবং প্রাণ বাঁচাতে সবকিছু ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি এটিকে একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

জাতিসংঘ আগেই সতর্ক করেছিল যে, কর্দোফানেও এল-ফাশের মতো গণহত্যা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এল-ফাশের পতনের পর আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে বেসামরিক হত্যা, যৌন সহিংসতা ও অপহরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।

সেনাবাহিনী ও তাদের সাবেক মিত্র আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই সংকটকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে মোদির রেড রোড অনুষ্ঠানে সমতা নিয়ে বিতর্ক

সুদানে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, মানবিক সংকট চরমে

আপডেট সময় : ০২:১৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুদানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। সোমবার দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে উভয় পক্ষ একে অপরের অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে। সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম দারফুরের জালিংগেই শহরে সেনাবাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। শহরটি বর্তমানে আরএসএফ-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর একটি ভবন থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখা যায়। সামরিক বাহিনীর দাবি, ভবনটি আরএসএফ-এর একটি অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কর্দোফানের ডিলিং শহরে আরএসএফ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী সেখানে আরএসএফ-এর দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে দেওয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। ড্রোনটি একটি সরকারি মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যালয়ে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে চলমান এই যুদ্ধে ডিলিং শহরটি অন্যতম প্রধান সংঘর্ষকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ডিলিংয়ের আশপাশে দুটি সরবরাহ পথ খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর সেনাবাহিনী দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে কাদুগলি শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ আনুমানিক ১ লাখ ৪৭ হাজার নাগরিক নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গত অক্টোবরে দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশের পতনের পর আরএসএফ এখন উর্বর ও বিস্তৃত কর্দোফান অঞ্চলের দিকে তাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) মহাসচিব জ্যান এগেল্যান্ড দক্ষিণ কর্দোফানের পরিস্থিতিকে ‘সুদানের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও উপেক্ষিত এলাকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অঞ্চলটি পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সেখানকার পুরো জনগোষ্ঠী চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে এবং প্রাণ বাঁচাতে সবকিছু ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি এটিকে একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

জাতিসংঘ আগেই সতর্ক করেছিল যে, কর্দোফানেও এল-ফাশের মতো গণহত্যা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এল-ফাশের পতনের পর আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে বেসামরিক হত্যা, যৌন সহিংসতা ও অপহরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।

সেনাবাহিনী ও তাদের সাবেক মিত্র আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই সংকটকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।