ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। আগামী ১ নভেম্বর প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর সংসদখ্যাত ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিষদ (পিএনসি)-এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এই নির্বাচনকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে একটি নতুন বিধান। এই প্রথমবারের মতো পিএনসি সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন। পূর্বে এই পরিষদ সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়া হতো পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে, সরাসরি ভোটাভুটি ছাড়াই। নতুন এই নিয়ম প্রবর্তনের ফলে ফিলিস্তিনি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একটি ডিক্রির মাধ্যমে এই নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে বসবাসরত সকল ফিলিস্তিনি নাগরিক যেন অবাধে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সে জন্য দেশ-বিদেশে ভোটগ্রহণের সুব্যবস্থা করা হবে। পিএলও এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ—উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিষদ পিএলও-এর সংসদীয় কাঠামো হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। এই পরিষদটি মূলত প্রেসিডেন্ট আব্বাস নেতৃত্বাধীন ফাতাহ আন্দোলনের প্রভাবাধীন। ফিলিস্তিনের কিংবদন্তী নেতা ইয়াসির আরাফাত ১৯৬০-এর দশকে পিএলও-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং তিনি দীর্ঘ সময় সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে হামাস এবং ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) পিএলও-এর সদস্য নয়। ফলে, পিএলও-এর নীতি নির্ধারণী কোনো সংস্থার কার্যক্রমে এই দুটি সংগঠনের সরাসরি কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। এই নির্বাচন ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























