ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা: ভারতে স্বস্তি ফিরলেও সংশয় কাটছে না

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের রপ্তানিকারক মহল। তাদের মতে, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। তবে চুক্তির বিভিন্ন দিক এখনো অস্পষ্ট থাকায় বিশ্লেষকেরা এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই এই চুক্তির পথ সুগম হয়। তিনি আরও জানান, গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে। একইসঙ্গে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস সূত্র নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা ও অন্যান্য সামগ্রী মিলিয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আমদানিতে সম্মতি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র যখন বিভিন্ন দেশের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, তখন অধিকাংশ দেশ চুক্তিতে পৌঁছালেও ভারত তার বাইরে থেকে যায়। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ তুলে নেয় এবং ভারতীয় রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।

তবে সোমবার গভীর রাতে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ভারতের বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়। মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মুম্বাইয়ের শেয়ারবাজার সূচক নিফটি প্রায় পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (এফআইইও) এই চুক্তিকে “সব চুক্তির জনক” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, শুল্ক কমার ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমান অবস্থানে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। বিশেষত পোশাক ও জুতা শিল্পে যেসব অর্ডার আটকে ছিল, সেগুলো দ্রুত ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্মার্টফোন ও জেনেরিক ওষুধের মতো খাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও মৎস্যপণ্য, রত্ন ও গয়নার মতো শ্রমঘন খাতগুলো আগের উচ্চ শুল্কে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিল। সিফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার মতে, শুল্ক হ্রাস পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের সামুদ্রিক পণ্যের রপ্তানি পুনরায় বৃদ্ধি পাবে।

তবে অর্থনীতিবিদরা চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামানোর পথে এগোচ্ছে—এই দাবিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতের রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কৃষিখাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির দাবিকেও অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, লিখিত চুক্তি, যৌথ বিবৃতি ও বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা না আসা পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি না ধরে বরং একটি রাজনৈতিক ঘোষণা হিসেবেই দেখা উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে মোদির রেড রোড অনুষ্ঠানে সমতা নিয়ে বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা: ভারতে স্বস্তি ফিরলেও সংশয় কাটছে না

আপডেট সময় : ১২:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের রপ্তানিকারক মহল। তাদের মতে, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। তবে চুক্তির বিভিন্ন দিক এখনো অস্পষ্ট থাকায় বিশ্লেষকেরা এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই এই চুক্তির পথ সুগম হয়। তিনি আরও জানান, গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে। একইসঙ্গে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস সূত্র নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা ও অন্যান্য সামগ্রী মিলিয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আমদানিতে সম্মতি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র যখন বিভিন্ন দেশের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, তখন অধিকাংশ দেশ চুক্তিতে পৌঁছালেও ভারত তার বাইরে থেকে যায়। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ তুলে নেয় এবং ভারতীয় রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।

তবে সোমবার গভীর রাতে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ভারতের বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়। মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মুম্বাইয়ের শেয়ারবাজার সূচক নিফটি প্রায় পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (এফআইইও) এই চুক্তিকে “সব চুক্তির জনক” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, শুল্ক কমার ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমান অবস্থানে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। বিশেষত পোশাক ও জুতা শিল্পে যেসব অর্ডার আটকে ছিল, সেগুলো দ্রুত ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্মার্টফোন ও জেনেরিক ওষুধের মতো খাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও মৎস্যপণ্য, রত্ন ও গয়নার মতো শ্রমঘন খাতগুলো আগের উচ্চ শুল্কে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিল। সিফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার মতে, শুল্ক হ্রাস পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের সামুদ্রিক পণ্যের রপ্তানি পুনরায় বৃদ্ধি পাবে।

তবে অর্থনীতিবিদরা চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামানোর পথে এগোচ্ছে—এই দাবিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতের রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কৃষিখাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির দাবিকেও অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, লিখিত চুক্তি, যৌথ বিবৃতি ও বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা না আসা পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি না ধরে বরং একটি রাজনৈতিক ঘোষণা হিসেবেই দেখা উচিত।