ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক প্রস্তুতি: বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আমেরিকা তার সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে, ইরান থেকে সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় অঞ্চলজুড়ে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রবিবার এই তথ্য জানিয়েছে।

পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচুড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) এবং পেট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব এবং কাতারের মতো দেশগুলোতে অবস্থিত এই ঘাঁটিগুলোকে যেকোনো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম, অন্যদিকে পেট্রিয়ট স্বল্প উচ্চতায় উড়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বের সীমিত কিছু স্থানেই মোতায়েন রয়েছে এবং এই ধরনের ব্যবস্থা স্থানান্তরের জন্য বিপুল সংখ্যক জনশক্তি ও লজিস্টিক সহায়তার প্রয়োজন হয়।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি, তবে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আমেরিকা ইরানে সীমিত মাত্রার হামলা চালাতে পারে। তবে, এই ধরনের যেকোনো হামলার প্রতিক্রিয়া ইরান থেকে ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক মিত্র এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা করার জন্যই এই অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো উত্তর দিতে রাজি হয়নি।

এদিকে, সংঘাত এড়ানোর জন্য ইরান ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, “আমি নিশ্চিত আমরা চুক্তি করতে পারব।” তিনি আরও জানান যে, আলোচনার ক্ষেত্রে আমেরিকার ওপর ইরানের আস্থা কম থাকায়, দুই পক্ষের মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, আমেরিকা যদি ইরানে কোনো হামলা চালায়, তবে তা একটি “আঞ্চলিক যুদ্ধের” জন্ম দেবে। রবিবার তেহরানে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ রুহুল্লাহ খোমেনির প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। আয়াতুল্লাহ খামেনি আরও বলেন, “তাদের জেনে রাখা উচিত এ সময় যদি তারা যুদ্ধ শুরু করে, তবে এটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।”

এই প্রেক্ষাপটে, রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “তিনি কেন তা বলবেন না? অবশ্যই তিনি তা-ই বলবেন। তাদের কাছাকাছি আমাদের বিশ্বের বৃহত্তম শক্তিশালী জাহাজগুলো রয়েছে। আশা করি আমরা চুক্তি করতে পারব। তবে চুক্তি না হলে দেখা যাবে তার কথা কতটুকু সঠিক।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে মোদির রেড রোড অনুষ্ঠানে সমতা নিয়ে বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক প্রস্তুতি: বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদার

আপডেট সময় : ১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আমেরিকা তার সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে, ইরান থেকে সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় অঞ্চলজুড়ে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রবিবার এই তথ্য জানিয়েছে।

পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচুড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) এবং পেট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব এবং কাতারের মতো দেশগুলোতে অবস্থিত এই ঘাঁটিগুলোকে যেকোনো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম, অন্যদিকে পেট্রিয়ট স্বল্প উচ্চতায় উড়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বের সীমিত কিছু স্থানেই মোতায়েন রয়েছে এবং এই ধরনের ব্যবস্থা স্থানান্তরের জন্য বিপুল সংখ্যক জনশক্তি ও লজিস্টিক সহায়তার প্রয়োজন হয়।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি, তবে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আমেরিকা ইরানে সীমিত মাত্রার হামলা চালাতে পারে। তবে, এই ধরনের যেকোনো হামলার প্রতিক্রিয়া ইরান থেকে ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক মিত্র এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা করার জন্যই এই অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো উত্তর দিতে রাজি হয়নি।

এদিকে, সংঘাত এড়ানোর জন্য ইরান ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, “আমি নিশ্চিত আমরা চুক্তি করতে পারব।” তিনি আরও জানান যে, আলোচনার ক্ষেত্রে আমেরিকার ওপর ইরানের আস্থা কম থাকায়, দুই পক্ষের মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, আমেরিকা যদি ইরানে কোনো হামলা চালায়, তবে তা একটি “আঞ্চলিক যুদ্ধের” জন্ম দেবে। রবিবার তেহরানে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ রুহুল্লাহ খোমেনির প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। আয়াতুল্লাহ খামেনি আরও বলেন, “তাদের জেনে রাখা উচিত এ সময় যদি তারা যুদ্ধ শুরু করে, তবে এটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।”

এই প্রেক্ষাপটে, রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “তিনি কেন তা বলবেন না? অবশ্যই তিনি তা-ই বলবেন। তাদের কাছাকাছি আমাদের বিশ্বের বৃহত্তম শক্তিশালী জাহাজগুলো রয়েছে। আশা করি আমরা চুক্তি করতে পারব। তবে চুক্তি না হলে দেখা যাবে তার কথা কতটুকু সঠিক।”