ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না পাকিস্তান: আইসিসির শাস্তির মুখে পড়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ম্যাচটি বয়কটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ আসার পর ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তবে এই অনড় অবস্থানের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কোনো কঠোর শাস্তির মুখে পড়বে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যাচ্ছে।

আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য বেশ কঠিন হবে। মানির মতে, ভারত যখন ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তখন তারা যে যুক্তির আশ্রয় নিয়েছিল, পাকিস্তানও এখন একই পথে হাঁটছে। পাকিস্তানের দাবি, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তারা ভারতের বিপক্ষে কলম্বোর ম্যাচে অংশ নেবে না। এহসান মানি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, একই ধরনের পরিস্থিতিতে আইসিসি যদি ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নেয়, তবে তা ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে দল অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। বর্তমানে পিসিবি চেয়ারম্যান নিজেই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে।

এদিকে আইসিসি এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বয়কট করা ক্রীড়া নীতির পরিপন্থী। যদিও পিসিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি, তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে এমন পদক্ষেপের জন্য আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পাকিস্তান। আইসিসি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের প্রত্যাশার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই আইসিসি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক আকর্ষণ। এই ম্যাচটি না হলে সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপন খাত থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি রুপি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল মাঠে উপস্থিত না হলে প্রতিপক্ষকে ‘ওয়াকওভার’ দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ভারত সরাসরি দুই পয়েন্ট অর্জন করবে। নিয়ম পালনে ভারতীয় দল নির্ধারিত সময়ে মাঠে উপস্থিত থাকলেও পাকিস্তান অধিনায়ক টস করতে না এলে ম্যাচ রেফারি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন।

বিশ্বকাপ সূচি অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার মোকাবিলা করবে তারা। কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ১৫ ফেব্রুয়ারির হাইভোল্টেজ ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখন চরমে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসি বড় কোনো শাস্তির পথে না হাঁটলেও ভবিষ্যতে পাকিস্তানের জন্য বড় অংকের আর্থিক জরিমানা বা প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না পাকিস্তান: আইসিসির শাস্তির মুখে পড়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ম্যাচটি বয়কটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ আসার পর ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তবে এই অনড় অবস্থানের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কোনো কঠোর শাস্তির মুখে পড়বে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যাচ্ছে।

আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য বেশ কঠিন হবে। মানির মতে, ভারত যখন ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তখন তারা যে যুক্তির আশ্রয় নিয়েছিল, পাকিস্তানও এখন একই পথে হাঁটছে। পাকিস্তানের দাবি, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তারা ভারতের বিপক্ষে কলম্বোর ম্যাচে অংশ নেবে না। এহসান মানি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, একই ধরনের পরিস্থিতিতে আইসিসি যদি ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নেয়, তবে তা ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে দল অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। বর্তমানে পিসিবি চেয়ারম্যান নিজেই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে।

এদিকে আইসিসি এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বয়কট করা ক্রীড়া নীতির পরিপন্থী। যদিও পিসিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি, তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে এমন পদক্ষেপের জন্য আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পাকিস্তান। আইসিসি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের প্রত্যাশার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই আইসিসি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক আকর্ষণ। এই ম্যাচটি না হলে সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপন খাত থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি রুপি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল মাঠে উপস্থিত না হলে প্রতিপক্ষকে ‘ওয়াকওভার’ দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ভারত সরাসরি দুই পয়েন্ট অর্জন করবে। নিয়ম পালনে ভারতীয় দল নির্ধারিত সময়ে মাঠে উপস্থিত থাকলেও পাকিস্তান অধিনায়ক টস করতে না এলে ম্যাচ রেফারি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন।

বিশ্বকাপ সূচি অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার মোকাবিলা করবে তারা। কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ১৫ ফেব্রুয়ারির হাইভোল্টেজ ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখন চরমে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসি বড় কোনো শাস্তির পথে না হাঁটলেও ভবিষ্যতে পাকিস্তানের জন্য বড় অংকের আর্থিক জরিমানা বা প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।