ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

কুৎসা ও ধাপ্পাবাজিতে ভোট জেতা যায় না: নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে মির্জা আব্বাসের ক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, কুৎসা রটিয়ে, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বা ধাপ্পাবাজি করে জনগণের ভোট আদায় করা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দল নিশ্চিতভাবে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু তাদের এই শক্তির উৎস কী, তা জনগণ জানতে চায়। রবিবার রাজধানীর খিলগাঁও বাজারে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গণসংযোগের অংশ হিসেবে মির্জা আব্বাস এদিন বিকালে আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ গ্লোব নিবাস এবং নাভানা বিল্ডিংয়ের পাশে বিভিন্ন উঠান বৈঠকে অংশ নেন। রাতে পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টারের (পলওয়েল মার্কেটের পেছনে) ভেতরে গণসংযোগ এবং পরে মিলন মেলায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, আচরণ বিধিতে আক্রমণাত্মক বা উস্কানিমূলক মন্তব্য নিষিদ্ধ হলেও তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। তার দাবি, তাকেই বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং যারা মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন, তাদের ইহকাল ও পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব এসব বিষয়ে নজর রাখা উল্লেখ করে তিনি ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন। তার মতে, অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া ইসির পক্ষপাতদুষ্টতার প্রমাণ।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা আব্বাস তার নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার ঢাকা-৮ আসনের ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটের মধ্যে অর্ধেক ভোটারই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই অনুপস্থিত ভোটারদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, যদি এসব ভোটারকে পাওয়া না যায়, তাহলে তাদের বাতিল করা হোক, অন্যথায় নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল আসবে না।

কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে একটি স্বাধীনতা বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার ‘অশ্লীল ও নোংরা’ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, এমন মন্তব্য তিনি মুখে আনতে চান না। তার মতে, ইসলাম ধর্মে নারীদের কর্ম করা নিষিদ্ধ নয়, বরং তাদের সমঅধিকার দেওয়া হয়েছে। নারী সমাজকে এ ধরনের দলের প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি সবসময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাদের বিরুদ্ধেও অনেক সময় গণমাধ্যমে নানা কিছু লেখা হয়েছে, কিন্তু তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তবে তিনি একজন ‘অর্বাচীন বালক’ কর্তৃক গণমাধ্যমকে আক্রমণ ও হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন, মন্তব্য করেন যে, একাত্তরের যুদ্ধ বা চব্বিশের সংগ্রাম গণমাধ্যমকে হুমকি দেওয়ার জন্য হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে যানবাহন চুরির হিড়িক: প্রতিদিন গড়ে চুরি হচ্ছে একটি গাড়ি বা মোটরসাইকেল

কুৎসা ও ধাপ্পাবাজিতে ভোট জেতা যায় না: নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে মির্জা আব্বাসের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, কুৎসা রটিয়ে, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বা ধাপ্পাবাজি করে জনগণের ভোট আদায় করা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দল নিশ্চিতভাবে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু তাদের এই শক্তির উৎস কী, তা জনগণ জানতে চায়। রবিবার রাজধানীর খিলগাঁও বাজারে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গণসংযোগের অংশ হিসেবে মির্জা আব্বাস এদিন বিকালে আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ গ্লোব নিবাস এবং নাভানা বিল্ডিংয়ের পাশে বিভিন্ন উঠান বৈঠকে অংশ নেন। রাতে পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টারের (পলওয়েল মার্কেটের পেছনে) ভেতরে গণসংযোগ এবং পরে মিলন মেলায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, আচরণ বিধিতে আক্রমণাত্মক বা উস্কানিমূলক মন্তব্য নিষিদ্ধ হলেও তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। তার দাবি, তাকেই বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং যারা মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন, তাদের ইহকাল ও পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব এসব বিষয়ে নজর রাখা উল্লেখ করে তিনি ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন। তার মতে, অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া ইসির পক্ষপাতদুষ্টতার প্রমাণ।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা আব্বাস তার নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার ঢাকা-৮ আসনের ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটের মধ্যে অর্ধেক ভোটারই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই অনুপস্থিত ভোটারদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, যদি এসব ভোটারকে পাওয়া না যায়, তাহলে তাদের বাতিল করা হোক, অন্যথায় নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল আসবে না।

কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে একটি স্বাধীনতা বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার ‘অশ্লীল ও নোংরা’ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, এমন মন্তব্য তিনি মুখে আনতে চান না। তার মতে, ইসলাম ধর্মে নারীদের কর্ম করা নিষিদ্ধ নয়, বরং তাদের সমঅধিকার দেওয়া হয়েছে। নারী সমাজকে এ ধরনের দলের প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি সবসময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাদের বিরুদ্ধেও অনেক সময় গণমাধ্যমে নানা কিছু লেখা হয়েছে, কিন্তু তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তবে তিনি একজন ‘অর্বাচীন বালক’ কর্তৃক গণমাধ্যমকে আক্রমণ ও হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন, মন্তব্য করেন যে, একাত্তরের যুদ্ধ বা চব্বিশের সংগ্রাম গণমাধ্যমকে হুমকি দেওয়ার জন্য হয়নি।