ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপি-সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ওপর পরিকল্পিত হামলা: স্বেচ্ছাসেবক দলের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপি-সমর্থক ও দলটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের ওপর ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। দলটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী রবিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন।

তিনি দাবি করেন, ধর্মকে ব্যবহার করে জামায়াত-শিবির চক্র দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বিএনপি সমর্থকদের ওপর প্রকাশ্য ও গোপনে হামলা চালাচ্ছে। রামদা, ছুরি, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই হামলাকারীরা সাধারণ নাগরিক, এমনকি শিশু, নারী ও বৃদ্ধদেরও রেহাই দিচ্ছে না। মধ্যযুগীয় বর্বরতার মতো পরিবারকে নির্মূল করার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইয়াসিন আলী জানান, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মিজান খানের পরিবারের ওপর একটি ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে কুমিল্লার ১১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মোহাম্মদ তাহেরের ইন্ধন ছিল এবং জামায়াতের সাবেক আমির কাজী শহীদের ছেলে শিবির ক্যাডার ফরাদ ও শাকিবের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল মিজান খানের পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা।

এই হামলায় মিজান খানের মা আমেনা বেগম (৮০), ছোট বোন নার্গিস বেগম (৪০), নাজমা বেগম (৫০), ভাগিনা ইফতেখার (১৭), বড় বোনের বড় সন্তান ফারান মাহমুদ (২১), সাত বছর বয়সী এক শিশু এবং মিজান খানের ভগ্নিপতি রিপন গুরুতর আহত হন। আহতদের কুমিল্লার জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তারা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসিন আলী আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এসেছিল, তাকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরাজিত শক্তিগুলো নিশ্চিত পরাজয় জেনে দেশব্যাপী এই নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তিনি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজান খানের পরিবারের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে যানবাহন চুরির হিড়িক: প্রতিদিন গড়ে চুরি হচ্ছে একটি গাড়ি বা মোটরসাইকেল

বিএনপি-সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ওপর পরিকল্পিত হামলা: স্বেচ্ছাসেবক দলের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপি-সমর্থক ও দলটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের ওপর ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। দলটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী রবিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন।

তিনি দাবি করেন, ধর্মকে ব্যবহার করে জামায়াত-শিবির চক্র দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বিএনপি সমর্থকদের ওপর প্রকাশ্য ও গোপনে হামলা চালাচ্ছে। রামদা, ছুরি, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই হামলাকারীরা সাধারণ নাগরিক, এমনকি শিশু, নারী ও বৃদ্ধদেরও রেহাই দিচ্ছে না। মধ্যযুগীয় বর্বরতার মতো পরিবারকে নির্মূল করার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইয়াসিন আলী জানান, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মিজান খানের পরিবারের ওপর একটি ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে কুমিল্লার ১১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মোহাম্মদ তাহেরের ইন্ধন ছিল এবং জামায়াতের সাবেক আমির কাজী শহীদের ছেলে শিবির ক্যাডার ফরাদ ও শাকিবের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল মিজান খানের পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা।

এই হামলায় মিজান খানের মা আমেনা বেগম (৮০), ছোট বোন নার্গিস বেগম (৪০), নাজমা বেগম (৫০), ভাগিনা ইফতেখার (১৭), বড় বোনের বড় সন্তান ফারান মাহমুদ (২১), সাত বছর বয়সী এক শিশু এবং মিজান খানের ভগ্নিপতি রিপন গুরুতর আহত হন। আহতদের কুমিল্লার জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তারা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসিন আলী আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এসেছিল, তাকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরাজিত শক্তিগুলো নিশ্চিত পরাজয় জেনে দেশব্যাপী এই নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তিনি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজান খানের পরিবারের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করবে।