ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ফেনীতে কিশোরদের ছুরিকাঘাতে টমটমচালক নিহত, আহত ১

ফেনী শহরের নাজির রোডে একদল কিশোরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. মাসুদ হাসান মাহিদ (১৯) নামে এক টমটমচালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলায় ইরফান (১৫) নামে আরও এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।

নিহত মাহিদ কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জয়পুর গ্রামের মো. নয়নের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে সপরিবারে ফেনী শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। পেশায় তিনি বাবার সঙ্গে বরফকলে কাজ করার পাশাপাশি টমটম চালাতেন।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় টমটম নিয়ে বের হলে কয়েকজন কিশোর মাহিদকে ডেকে নিয়ে যায়। নাজির রোড এলাকায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই কিশোররা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাহিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ইরফানও জখম হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ইরফানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের বাবা মো. নয়ন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “মাহিদ অসুস্থতার কারণে কয়েকদিন কাজে যায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় সে টমটম নিয়ে বের হয়েছিল। পরে খবর পাই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখি আমার ছেলে আর নেই। আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”

নিহতের ছোট ভাই অভিযোগ করে জানায়, এলাকায় ইয়াফি, রাহাত, শান্ত, মারুফ ও নিলয় নামে কয়েকজন কিশোর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। এর আগেও তারা একবার মাহিদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুহুল মোহছেন সুজন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মাহিদের মৃত্যু হয়েছে। তার বাম কাঁধ ও বুকে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। এছাড়া আহত অপর কিশোরের মুখে ও কানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। মাহিদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাহাত নামে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশ বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে এবং কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে ৮ এপিবিএনের কঠোর অবস্থান

ফেনীতে কিশোরদের ছুরিকাঘাতে টমটমচালক নিহত, আহত ১

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

ফেনী শহরের নাজির রোডে একদল কিশোরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. মাসুদ হাসান মাহিদ (১৯) নামে এক টমটমচালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলায় ইরফান (১৫) নামে আরও এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।

নিহত মাহিদ কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জয়পুর গ্রামের মো. নয়নের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে সপরিবারে ফেনী শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। পেশায় তিনি বাবার সঙ্গে বরফকলে কাজ করার পাশাপাশি টমটম চালাতেন।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় টমটম নিয়ে বের হলে কয়েকজন কিশোর মাহিদকে ডেকে নিয়ে যায়। নাজির রোড এলাকায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই কিশোররা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাহিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ইরফানও জখম হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ইরফানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের বাবা মো. নয়ন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “মাহিদ অসুস্থতার কারণে কয়েকদিন কাজে যায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় সে টমটম নিয়ে বের হয়েছিল। পরে খবর পাই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখি আমার ছেলে আর নেই। আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”

নিহতের ছোট ভাই অভিযোগ করে জানায়, এলাকায় ইয়াফি, রাহাত, শান্ত, মারুফ ও নিলয় নামে কয়েকজন কিশোর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। এর আগেও তারা একবার মাহিদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুহুল মোহছেন সুজন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মাহিদের মৃত্যু হয়েছে। তার বাম কাঁধ ও বুকে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। এছাড়া আহত অপর কিশোরের মুখে ও কানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। মাহিদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাহাত নামে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশ বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে এবং কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।