ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

‘দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে একটি দল বেসামাল হয়ে পড়েছে’: মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সারাদেশে ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই গণজোয়ার দেখে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল দিশেহারা হয়ে বেসামাল হয়ে পড়েছে। তারা এখন ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হামলা চালাচ্ছে। এমনকি তারা পবিত্র কোরআনের হাফেজকেও নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করছে না।

শনিবার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর-৪) আসনে ১১-দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নারীরা যখন দাঁড়িয়েপাল্লার পক্ষে গণসংযোগে বের হচ্ছেন, তখন তাদের ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে। শেরপুরে জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারিকে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। রাজনীতির এই নেতিবাচক চরিত্র বদলাতে এবং দেশে ইনসাফ কায়েম করতে তিনি আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িয়েপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, সেই দলগুলোর কোনো নেতা দাবি করতে পারবেন না যে তারা দুর্নীতি, অপশাসন ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত ছিলেন। দেশের মানুষ এখন এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি এবং আমূল পরিবর্তন চায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৬টি ইসলামী দল এবং জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের দল এনসিপি ও এলডিপিসহ মোট ১১টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোট গঠন করেছে। এই জোটের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির কোনো অভিযোগ নেই। নির্বাচনে ১১-দলীয় জোট বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে এমন একটি সুশাসিত সমাজ বিনির্মাণ করা হবে, যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও ইনসাফ নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

বিগত ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর যারা হাট-বাজার, দোকানপাট ও বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করেছে, তারাই এখন ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলেও কারা এসব বিশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট। এখন তারাই আবার শান্তির বাংলাদেশের কথা বলছে, যা হাস্যকর।

চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির ও জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, সহ-সেক্রেটারি অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইউনুস হেলালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে ৮ এপিবিএনের কঠোর অবস্থান

‘দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে একটি দল বেসামাল হয়ে পড়েছে’: মিয়া গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় : ১২:১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সারাদেশে ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই গণজোয়ার দেখে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল দিশেহারা হয়ে বেসামাল হয়ে পড়েছে। তারা এখন ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হামলা চালাচ্ছে। এমনকি তারা পবিত্র কোরআনের হাফেজকেও নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করছে না।

শনিবার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর-৪) আসনে ১১-দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নারীরা যখন দাঁড়িয়েপাল্লার পক্ষে গণসংযোগে বের হচ্ছেন, তখন তাদের ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে। শেরপুরে জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারিকে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। রাজনীতির এই নেতিবাচক চরিত্র বদলাতে এবং দেশে ইনসাফ কায়েম করতে তিনি আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িয়েপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, সেই দলগুলোর কোনো নেতা দাবি করতে পারবেন না যে তারা দুর্নীতি, অপশাসন ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত ছিলেন। দেশের মানুষ এখন এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি এবং আমূল পরিবর্তন চায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৬টি ইসলামী দল এবং জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের দল এনসিপি ও এলডিপিসহ মোট ১১টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোট গঠন করেছে। এই জোটের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির কোনো অভিযোগ নেই। নির্বাচনে ১১-দলীয় জোট বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে এমন একটি সুশাসিত সমাজ বিনির্মাণ করা হবে, যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও ইনসাফ নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

বিগত ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর যারা হাট-বাজার, দোকানপাট ও বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করেছে, তারাই এখন ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলেও কারা এসব বিশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট। এখন তারাই আবার শান্তির বাংলাদেশের কথা বলছে, যা হাস্যকর।

চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির ও জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, সহ-সেক্রেটারি অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইউনুস হেলালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।