কক্সবাজারের উখিয়ায় হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মরিচ্যা গুরামিয়া গ্যারেজ এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে এই বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, মরিচ্যা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মার্কেট নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। সেই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং সাম্প্রদায়িক উসকানি দিতে জনৈক হিন্দু নারীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি উখিয়া থানায় মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী, সাংবাদিক জালাল উদ্দিন কাউছার ও এনসিপি নেতা রফিক উদ্দিনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বক্তারা এই মামলাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।
মানববন্ধন থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, “শিল্পী কর্মকার নামের এক নারীকে ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল জননন্দিত চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। যে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এই ধরনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।”
হলদিয়াপালং ইউনিয়ন দুর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদুল শর্মা বাবু তার বক্তব্যে বলেন, “চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী গত চার বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সময়ে এলাকায় কোনো সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি হয়নি, বরং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে চমৎকার সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। এমন একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা আমাদের ব্যথিত করেছে।”
উখিয়া উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন শর্মা বলেন, “মরিচ্যা বাজারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সংখ্যালঘু পরিচয় ব্যবহার করে চেয়ারম্যানকে হয়রানি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন রুমখা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া, কালীমন্দির কমিটির সভাপতি অরিবৃন্দ ধর, পশ্চিমপাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি অজিত শর্মা, বড়ুয়াপাড়ার সমাজসেবক কাজল বড়ুয়া এবং বিভিন্ন মন্দির ও বিহার কমিটির নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার এবং ষড়যন্ত্রমূলক মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রিপোর্টারের নাম 




















