ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

রাজনৈতিক পট পরিবর্তন: মনজুর আলমের বিএনপিতে প্রত্যাবর্তন ও নির্বাচনী প্রচার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক আলোচিত ব্যক্তিত্ব এম মনজুর আলম, যিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের জন্য পরিচিত। একসময়ের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে শুরু করে বিএনপির মেয়র নির্বাচিত হওয়া এবং পরবর্তীতে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া—তার এই রাজনৈতিক যাত্রাপথ ছিল ঘটনাবহুল। সম্প্রতি তিনি আবারও বিএনপির প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

মনজুর আলম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। রাতারাতি দলীয় মনোনয়ন লাভ করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি এবং পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদও অলংকৃত করেন।

পরবর্তী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলে মনজুর আলমও রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। এরপর তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগে ফিরে যান এবং তার ভাতিজা দিদারুল আলমকে সীতাকুণ্ড আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সহায়তা করেন। শেখ রাসেলের নামে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং এর উদ্বোধনে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এক সাবেক শীর্ষস্থানীয় নেত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। যদিও তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি প্রয়াত শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন। ২০২৪ সালের একটি নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি আওয়ামী লীগের ভোট প্রাপ্তির বৈধতাও দিয়েছিলেন।

সম্প্রতি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এম মনজুর আলম আবারও তার অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা আবারও বিএনপিতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শেখ রাসেলের নামে নির্মিত মিনি স্টেডিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে মোস্তফা হাকিম স্টেডিয়াম নামকরণ করেন তিনি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার স্মরণসভায় অংশ নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। সর্বশেষ, চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারে সপরিবারে অংশ নিয়েছেন তিনি। গুঞ্জন রয়েছে, নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেবেন এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবারও বিএনপির হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই নিয়ে ব্যাপক প্রচার চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে ৮ এপিবিএনের কঠোর অবস্থান

রাজনৈতিক পট পরিবর্তন: মনজুর আলমের বিএনপিতে প্রত্যাবর্তন ও নির্বাচনী প্রচার

আপডেট সময় : ১১:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক আলোচিত ব্যক্তিত্ব এম মনজুর আলম, যিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের জন্য পরিচিত। একসময়ের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে শুরু করে বিএনপির মেয়র নির্বাচিত হওয়া এবং পরবর্তীতে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া—তার এই রাজনৈতিক যাত্রাপথ ছিল ঘটনাবহুল। সম্প্রতি তিনি আবারও বিএনপির প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

মনজুর আলম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। রাতারাতি দলীয় মনোনয়ন লাভ করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি এবং পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদও অলংকৃত করেন।

পরবর্তী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলে মনজুর আলমও রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। এরপর তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগে ফিরে যান এবং তার ভাতিজা দিদারুল আলমকে সীতাকুণ্ড আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সহায়তা করেন। শেখ রাসেলের নামে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং এর উদ্বোধনে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এক সাবেক শীর্ষস্থানীয় নেত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। যদিও তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি প্রয়াত শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন। ২০২৪ সালের একটি নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি আওয়ামী লীগের ভোট প্রাপ্তির বৈধতাও দিয়েছিলেন।

সম্প্রতি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এম মনজুর আলম আবারও তার অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা আবারও বিএনপিতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শেখ রাসেলের নামে নির্মিত মিনি স্টেডিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে মোস্তফা হাকিম স্টেডিয়াম নামকরণ করেন তিনি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার স্মরণসভায় অংশ নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। সর্বশেষ, চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারে সপরিবারে অংশ নিয়েছেন তিনি। গুঞ্জন রয়েছে, নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেবেন এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবারও বিএনপির হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই নিয়ে ব্যাপক প্রচার চলছে।