ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত, তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৬ ডিগ্রিতে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের শীতলতম জনপদ হিসেবে পরিচিত চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার সকালে এই অঞ্চলে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা আর উত্তুরে হাওয়ায় জনজীবনে চরম স্থবিরতা ও দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় এই তাপমাত্রা নথিভুক্ত করা হয়। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছেন। তীব্র ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে রাস্তাঘাট ও হাট-বাজারে মানুষের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম দেখা গেছে।

শীতের এই আকস্মিক প্রকোপে জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, তীব্র ঠান্ডাজনিত কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও ডায়রিয়ার মতো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়ার ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই অঞ্চলটি বরাবরই দেশের অন্যতম শীতল এলাকা হিসেবে পরিচিত। ১৯৬8 সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এখানে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। এছাড়া ১৯৬৬, ১৯৯৫, ২০০৩ এবং ২০০৭ সালেও এই জনপদে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শীতের এই দাপট আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হতদরিদ্রদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শ্রীমঙ্গলে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত, তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৬ ডিগ্রিতে

আপডেট সময় : ১০:৩৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের শীতলতম জনপদ হিসেবে পরিচিত চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার সকালে এই অঞ্চলে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা আর উত্তুরে হাওয়ায় জনজীবনে চরম স্থবিরতা ও দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় এই তাপমাত্রা নথিভুক্ত করা হয়। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছেন। তীব্র ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে রাস্তাঘাট ও হাট-বাজারে মানুষের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম দেখা গেছে।

শীতের এই আকস্মিক প্রকোপে জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, তীব্র ঠান্ডাজনিত কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও ডায়রিয়ার মতো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়ার ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই অঞ্চলটি বরাবরই দেশের অন্যতম শীতল এলাকা হিসেবে পরিচিত। ১৯৬8 সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এখানে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। এছাড়া ১৯৬৬, ১৯৯৫, ২০০৩ এবং ২০০৭ সালেও এই জনপদে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শীতের এই দাপট আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।