ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

হতদরিদ্রদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৫ জন নারীর হাতে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন তিনি।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে এই কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্থান পেয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। এর জন্য প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয়ের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ৫১৮০৫টি হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত খানার তথ্যের মধ্যে ৪৭৭৭৭টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এরপর ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩ হাজার ৭৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

এছাড়াও ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারের ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালী সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি) এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত এই তথ্য ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি কর্তৃক অধিকতর যাচাইপূর্বক উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬ হাজার ৭৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে ৮ এপিবিএনের কঠোর অবস্থান

হতদরিদ্রদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৫ জন নারীর হাতে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন তিনি।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে এই কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্থান পেয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। এর জন্য প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয়ের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ৫১৮০৫টি হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত খানার তথ্যের মধ্যে ৪৭৭৭৭টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এরপর ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩ হাজার ৭৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

এছাড়াও ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারের ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালী সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি) এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত এই তথ্য ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি কর্তৃক অধিকতর যাচাইপূর্বক উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬ হাজার ৭৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।