ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সাতক্ষীরা-১ আসনে ভোটের হাওয়া: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-১ (তালা ও কলারোয়া) আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে প্রার্থীরা এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। জনবহুল এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটবাজার—সবখানেই এখন নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর। আসনটিতে পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে।

নির্বাচনী ময়দানে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় এনজিও বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব ইয়ারুল ইসলাম এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের পাটকেলঘাটা থানা শাখার আমির মাওলানা শেখ রেজাউল করিম। প্রার্থীরা কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন আদায়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৯০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯২০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। কলারোয়া উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৫৭ জন এবং তালা উপজেলায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৫৫ জন। পরিসংখ্যান বলছে, এই আসনে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা কিছুটা বেশি, যা নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মাঠ পর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও প্রচার-প্রচারণায় বর্তমানে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ ও কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন এবং বড় জনসমাবেশ করে নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিচ্ছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের নারী ও পুরুষ কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালিয়ে ভোটের সমীকরণ নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা ভোটারদের মন জয়ে দুই দলের প্রার্থীরাই ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রার্থীরা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শীতকালীন ওয়াজ মাহফিল, নামযজ্ঞ, যাত্রাপালা কিংবা শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করছেন তারা। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থীকে কিছু এলাকায় প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও অন্য দুই প্রার্থীর তৎপরতা তুলনামূলক কম।

সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, আগামী নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর। ভোটাররা চান কোনো ভয়ভীতি ছাড়া তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। যদিও পাঁচটি দলের প্রার্থী মাঠে রয়েছেন, তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মূল লড়াইটি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল। ওদিকে, বড় দুই দলের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সমীকরণে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা দেখতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হতদরিদ্রদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাতক্ষীরা-১ আসনে ভোটের হাওয়া: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

আপডেট সময় : ১০:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-১ (তালা ও কলারোয়া) আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে প্রার্থীরা এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। জনবহুল এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটবাজার—সবখানেই এখন নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর। আসনটিতে পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে।

নির্বাচনী ময়দানে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় এনজিও বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব ইয়ারুল ইসলাম এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের পাটকেলঘাটা থানা শাখার আমির মাওলানা শেখ রেজাউল করিম। প্রার্থীরা কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন আদায়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৯০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯২০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। কলারোয়া উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৫৭ জন এবং তালা উপজেলায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৫৫ জন। পরিসংখ্যান বলছে, এই আসনে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা কিছুটা বেশি, যা নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মাঠ পর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও প্রচার-প্রচারণায় বর্তমানে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ ও কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন এবং বড় জনসমাবেশ করে নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিচ্ছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের নারী ও পুরুষ কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালিয়ে ভোটের সমীকরণ নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা ভোটারদের মন জয়ে দুই দলের প্রার্থীরাই ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রার্থীরা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শীতকালীন ওয়াজ মাহফিল, নামযজ্ঞ, যাত্রাপালা কিংবা শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করছেন তারা। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থীকে কিছু এলাকায় প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও অন্য দুই প্রার্থীর তৎপরতা তুলনামূলক কম।

সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, আগামী নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর। ভোটাররা চান কোনো ভয়ভীতি ছাড়া তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। যদিও পাঁচটি দলের প্রার্থী মাঠে রয়েছেন, তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মূল লড়াইটি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল। ওদিকে, বড় দুই দলের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সমীকরণে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা দেখতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।