জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা এখন প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় শরীয়তপুরের নির্বাচনি চিত্র এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই জেলায় এবার দলটির প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা নেই। এই রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে মাঠে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরীয়তপুরের এবারের নির্বাচন কেবল আসন দখলের লড়াই নয়; বরং এটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনমতের একটি বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সুশাসন, জবাবদিহি এবং নৈতিকতার মতো বিষয়গুলো ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনি ময়দানে সক্রিয় না থাকলেও তাদের বিশাল এক ভোটব্যাংক এখনো রয়ে গেছে। এই ‘নীরব’ ভোটারদের সমর্থন যে প্রার্থীর দিকে যাবে, তিনিই শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা পরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-১ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার ভোটারের এই আসনে অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ কম থাকলেও এবার চিত্র ভিন্ন। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে এখানে মোট আটজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে।
আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম তৃণমূল পর্যায়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। তিনি মূলত ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। স্থানীয় আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একাংশের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় আসনটিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ছাড়াও শরীয়তপুর-১ আসনে আরও কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠে রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—এনসিপির আব্দুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নুর মোহাম্মদ মিয়া এবং গণঅধিকার পরিষদের ফিরোজ আহমেদ। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফাও নির্বাচনি লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন।
সব মিলিয়ে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে শরীয়তপুরের রাজনীতিতে এখন এক নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ ভোটাররা এবার কার ওপর আস্থা রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জয়-পরাজয় নির্ধারণে শেষ পর্যন্ত বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সেই অনুসারী ভোটাররাই, যারা বর্তমানে পর্দার আড়ালে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























