থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের জনপ্রিয় সবজি স্কোয়াশ চাষ করে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষক সেলিম মিয়া। বিদেশি এই সবজি চাষে মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভের মুখ দেখছেন তিনি। তার এই সাফল্য দেখে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও এখন নতুন জাতের এই সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বাহুবল উপজেলার ৫ নম্বর লামাতাশি ইউনিয়নের তঘলি গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে ঝিঙ্গা, লাউ, মুলা, টমেটো ও বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন দেশি সবজি চাষ করে আসছেন। তবে এবারই প্রথম তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে ১৩ শতক জমিতে স্কোয়াশ চাষ শুরু করেন। চারা রোপণের মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় ফলন আসতে শুরু করায় এবং বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় তিনি এখন বড় ধরনের লাভের স্বপ্ন দেখছেন।
নিজের সফলতার বিষয়ে সেলিম মিয়া জানান, উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তার উৎসাহ ও কারিগরি সহায়তায় তিনি মিষ্টিকুমড়া বা লাউয়ের মতো করে স্কোয়াশের বীজ বপন করেন। ১৩ শতক জমিতে বীজ, সার, কীটনাশক ও জমি প্রস্তুত বাবদ তার মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৮ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে তিনি কিছু সবজি বিক্রিও করেছেন। বর্তমান ফলন ও বাজারমূল্য বজায় থাকলে এই জমি থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্কোয়াশ মূলত একটি বিদেশি সবজি হলেও এটি মিষ্টিকুমড়া গোত্রের। এর গাছ ও চাষ পদ্ধতি অনেকটা মিষ্টিকুমড়ার মতোই। বাহুবলের বিভিন্ন গ্রামে গত কয়েক বছর ধরে বিচ্ছিন্নভাবে এর চাষ হলেও সেলিম মিয়ার সাফল্য এলাকার কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, “আমরা কৃষক সেলিম মিয়াকে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছি। তার জমিতে স্কোয়াশের আশাতীত ফলন হয়েছে, যা দেখে আশপাশের কৃষকরাও এই সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু জানান, স্কোয়াশ একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। যেহেতু এটি নতুন একটি সবজি, তাই চাষিদের সঠিক ধারণা দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “সেলিম মিয়ার মতো যারা সফল হয়েছেন, তাদের দেখে অনেকেই এখন পরামর্শ নিতে আসছেন। আমরা আগামী মৌসুমে এই এলাকায় স্কোয়াশের পাশাপাশি ব্রকলি, ক্যাপসিকাম ও রেড ক্যাবেজের মতো বিদেশি সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।”
পুষ্টিবিদদের মতে, স্কোয়াশ কেবল একটি সুস্বাদু সবজিই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও অনন্য। সাধারণ কুমড়ার তুলনায় এতে ভিটামিন এ, সি, ই, বি-৬ এবং প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান যেমন—ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রন রয়েছে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই সবজি ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও হৃদরোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
স্বল্প সময়ে অধিক লাভ এবং উচ্চ পুষ্টিমানের কারণে বাহুবলসহ আশপাশের এলাকায় স্কোয়াশ চাষের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 

























