বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের জোট প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো রাজনৈতিক দলের ‘দ্বিচারিতা’ সহ্য করবে না। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লা টাউনহল প্রাঙ্গণে জামায়াতে ইসলামীর এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও বিএনপির সমালোচনা: হাসনাত আবদুল্লাহ বিএনপির নির্বাচনী কৌশলের সমালোচনা করে বলেন, “এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা আর অন্য হাতে নারীদের হিজাব খুলে নেওয়া—এ ধরনের দ্বিচারিতা চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, মুখে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে নারীরা এখনো বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন।
দালাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত বিপ্লব’: গণমাধ্যমের একটি অংশের কড়া সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “কিছু টেলিভিশন চ্যানেল গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। অথচ এখন সেই একই গণমাধ্যম খোলস বদলে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে।” তিনি এই ধরনের সাংবাদিকতাকে ‘কনসেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং’ বা জনমত জালিয়াতি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আগামী চূড়ান্ত বিপ্লব হবে এই দালাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে, যারা সত্য সংবাদ প্রকাশে বাধা দেয় এবং নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করে।”
প্রশাসন ও তারেক রহমানের সংস্কার ভাবনা: আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কোনো নির্দিষ্ট দলের নন, আপনারা এ দেশের ২০ কোটি জনগণের। পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিয়ে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমানের ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, “বিচারব্যবস্থা নিয়ে তার অবস্থান এখনো ধোঁয়াশা। আমরা মনে করি, শুধু হাসিনার অপসারণ নয়, পুরো ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।”
কুমিল্লাকে বিভাগ করার অঙ্গীকার: কুমিল্লার আঞ্চলিক বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ ঘোষণা করেন, “এনসিপি ক্ষমতায় গেলে বা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যেই কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে।” কুমিল্লা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো অঞ্চল বৈষম্যের শিকার হবে না।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্য কুমিল্লা ও সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























