অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করে দেশটির প্রথম নারী সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুজান কয়েল। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা আগামী জুলাই মাস থেকে বর্তমান সেনাপ্রধানের স্থলাভিষিক্ত হবেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করে সুজান কয়েলকে এই পদের জন্য একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
১৯৮৭ সালে আর্মি রিজার্ভে যোগদানের মাধ্যমে সামরিক জীবন শুরু করা সুজান কয়েল কর্মজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং সব দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আফগানিস্তানে টাস্ক গ্রুপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে জয়েন্ট টাস্কফোর্সের কমান্ডারের দায়িত্ব পালনসহ পূর্ব তিমুর ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জে সেনা মোতায়েনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া তিনি সাইবার, মহাকাশ কমান্ড এবং তথ্য যুদ্ধের প্রধান হিসেবেও সাফল্যের সাথে কাজ করেছেন। তিন সন্তানের জননী সুজান ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজ থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
নিজের এই অর্জনকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নারী সামরিক সদস্যদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন সুজান কয়েল। তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান, তার কর্মজীবনের শুরুতে সেনাবাহিনীতে নারী সদস্যের হার ছিল মাত্র ১০ শতাংশ এবং পদোন্নতির সুযোগও ছিল সীমিত। তবে বর্তমানে চারজন নারী তিন তারকা জেনারেলের পদে আসীন হওয়া এবং তার এই শীর্ষ পদে নিয়োগ প্রমাণ করে যে যোগ্যতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নারীরা এখন সামরিক বাহিনীর সব স্তরে নিজেদের জয়গান গাইছেন। এই নিয়োগ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে লিঙ্গ সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করলো।
রিপোর্টারের নাম 



















