কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেবের চর গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকায় একটি ছোট সেতুর অভাবে প্রায় তিন দশক ধরে হাজার হাজার কৃষক ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সাহেবের চর হাজীবাড়ী প্রান্তে প্রয়োজনীয় সেতুর অভাবে এলাকার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে সংযুক্ত প্রায় ৫০০ একর আবাদি জমি রয়েছে, যেখানে সাহেবচর গ্রামের কৃষকরা সারা বছর ধরে চাষাবাদ করেন। তবে, ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা বা প্রাচীন খালটি, যা ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা থেকে বেরিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে কিশোরগঞ্জের জিনারী ইউনিয়নের চরহাজীপুর, চরকাটিহারী হয়ে সিদলা ইউনিয়নের সাহেবের চর গ্রামের পাশ দিয়ে পুনরায় ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়েছে, তা বর্তমানে কৃষকদের জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর ধরে খালটি মৃতপ্রায় থাকলেও, সম্প্রতি পুনঃখননের ফলে এটি প্রায় সারা বছরই জলাবদ্ধ থাকে। এর ফলে সাহেবচর গ্রামের কৃষকদের ৫০০ একর জমিতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গরু-ছাগল নিয়ে মাঠে যাওয়া-আসা করতে গিয়ে বারবার পানিতে ভিজে কষ্ট করতে হচ্ছে। এমনকি ফসল ঘরে তোলাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারাপারের এই দুভোর্গের কারণে জমিতে কাজ করার জন্য শ্রমিক খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, শাখচূড়া বা গফরগাঁওগামী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাকেও প্রতিদিন জামা ভিজিয়ে খাল পার হতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে উপজেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসে সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাপজোক করে গেলেও অদ্যাবধি কোনো সেতুর কাজ শুরু হয়নি। বর্তমানে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
গ্রামবাসীরা আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে ভোট আদায় করেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের আর দেখা মেলে না। এ অবস্থায়, সাহেবচর গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দ্রুত তাদের এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























