ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“সামিরার মা এখন আর দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।”

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

বাংলা সিনেমার তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় যে হত্যা মামলা হয়েছিল, তাতে নতুন একটা মোড় (বাঁক) এসেছে। এই গত ২১ অক্টোবর রমনা থানায় নতুন করে একটা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে অভিনেতার সাবেক স্ত্রী সামিরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি (৭১)-কে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এই মামলার কারণেই আদালত তার ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, অর্থাৎ তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

রমনা থানা পুলিশ এরই মধ্যে ইমিগ্রেশনকে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে, যেন লুসি এবং এই মামলার অন্য আসামিরা দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মামলার যিনি তদন্ত করছেন (তদন্তকারী কর্মকর্তা), তিনি আবেদন করেছিলেন, আর সেই আবেদনের ভিত্তিতেই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান গত মঙ্গলবার এই আদেশটা দেন।

এর আগেও, গত ২৭ অক্টোবর, সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক আর খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের ওপরেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে, আদালত এখন পর্যন্ত মোট তিনজনের দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলো।

ঘটনাটা ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের। সেদিন ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল (ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায়)। এরপর থেকেই এই ঘটনা নিয়ে লম্বা একটা তদন্ত শুরু হয়, যেটা প্রায় ৩০ বছর (তিন দশক) ধরে একটা অপমৃত্যুর মামলাই ছিল। অনেক পরে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের ফাইনাল রিপোর্টে জানায় যে, সালমান শাহ নাকি আত্মহত্যা করেছিলেন।

কিন্তু সিনেমার ভক্ত আর সমর্থকদের মনে এই ঘটনা নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্ত আর আসামিদের দেশ ছাড়ায় যে বাধা দেওয়া হলো, তাতে মনে হচ্ছে মামলাটা আবার যেন চালু (সক্রিয়) হয়ে উঠলো।

সালমান শাহ আসলেই বাংলা সিনেমার জগতে এক অন্যরকম প্রতিভা (অনন্য প্রতিভা) ছিলেন। খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শকদের মনে একটা বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। যদিও এই হত্যার অভিযোগ নিয়ে অনেকদিন ধরেই তদন্ত চলছিল, কিন্তু আদালতের এই নতুন পদক্ষেপটা যেন পুরো বিষয়টায় একটা নতুন দিক খুলে দিল (উন্মোচিত করেছে)।

রমনা থানা থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত চলতে থাকবে আর আদালতের নির্দেশমতোই সব কাজ ঠিকঠাকভাবে করা হবে। তারা আশা করছেন যে, লুসিসহ মামলার সব আসামিই এই নিষেধাজ্ঞা (বিধিনিষেধ) মেনে চলবেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

“সামিরার মা এখন আর দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।”

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

বাংলা সিনেমার তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় যে হত্যা মামলা হয়েছিল, তাতে নতুন একটা মোড় (বাঁক) এসেছে। এই গত ২১ অক্টোবর রমনা থানায় নতুন করে একটা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে অভিনেতার সাবেক স্ত্রী সামিরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি (৭১)-কে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এই মামলার কারণেই আদালত তার ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, অর্থাৎ তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

রমনা থানা পুলিশ এরই মধ্যে ইমিগ্রেশনকে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে, যেন লুসি এবং এই মামলার অন্য আসামিরা দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মামলার যিনি তদন্ত করছেন (তদন্তকারী কর্মকর্তা), তিনি আবেদন করেছিলেন, আর সেই আবেদনের ভিত্তিতেই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান গত মঙ্গলবার এই আদেশটা দেন।

এর আগেও, গত ২৭ অক্টোবর, সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক আর খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের ওপরেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে, আদালত এখন পর্যন্ত মোট তিনজনের দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলো।

ঘটনাটা ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের। সেদিন ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল (ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায়)। এরপর থেকেই এই ঘটনা নিয়ে লম্বা একটা তদন্ত শুরু হয়, যেটা প্রায় ৩০ বছর (তিন দশক) ধরে একটা অপমৃত্যুর মামলাই ছিল। অনেক পরে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের ফাইনাল রিপোর্টে জানায় যে, সালমান শাহ নাকি আত্মহত্যা করেছিলেন।

কিন্তু সিনেমার ভক্ত আর সমর্থকদের মনে এই ঘটনা নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্ত আর আসামিদের দেশ ছাড়ায় যে বাধা দেওয়া হলো, তাতে মনে হচ্ছে মামলাটা আবার যেন চালু (সক্রিয়) হয়ে উঠলো।

সালমান শাহ আসলেই বাংলা সিনেমার জগতে এক অন্যরকম প্রতিভা (অনন্য প্রতিভা) ছিলেন। খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শকদের মনে একটা বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। যদিও এই হত্যার অভিযোগ নিয়ে অনেকদিন ধরেই তদন্ত চলছিল, কিন্তু আদালতের এই নতুন পদক্ষেপটা যেন পুরো বিষয়টায় একটা নতুন দিক খুলে দিল (উন্মোচিত করেছে)।

রমনা থানা থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত চলতে থাকবে আর আদালতের নির্দেশমতোই সব কাজ ঠিকঠাকভাবে করা হবে। তারা আশা করছেন যে, লুসিসহ মামলার সব আসামিই এই নিষেধাজ্ঞা (বিধিনিষেধ) মেনে চলবেন।