ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

দুই দশক পর রংপুরে তারেক রহমান: আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনসভায় ভাষণ আজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ২০ বছর পর উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু রংপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর নগরীর ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগজুড়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ জুমার নামাজ শেষে বগুড়া থেকে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান। জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি রংপুর নগরীর জনসভাস্থলে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জনসভাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে ব্যাপক প্রস্তুতি চলেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করার পাশাপাশি মাঠের চারদিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মাইক স্থাপন করা হয়েছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শহরজুড়ে শোভাবর্ধন করেছেন। জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি তদারকি করছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু জানান, তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে পুরো রংপুর বিভাগে গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখতে এবং তার কথা শুনতে সাধারণ মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা আশা করছি, এই জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। রংপুর দীর্ঘকাল ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামী দিনে এই অঞ্চলের বঞ্চনা দূর হবে এবং উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হবে।”

রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পীরগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যানের এই সফর আমাদের প্রার্থীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। শহীদ আবু সাঈদের পবিত্র ভূমি থেকে তিনি যে বার্তা দেবেন, তা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসভাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তারেক রহমানের আগমন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। নগরীর সাধারণ ভোটাররা আশা করছেন, এই জনসভার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আসবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে তাকে সরাসরি দেখার এবং তার বক্তব্য শোনার বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, আজকের এই নির্বাচনী জনসভা কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের অধিকার আদায়ের এক বিশাল সমাবেশে পরিণত হবে। তারেক রহমানের আগমনে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে রংপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিতে ‘মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল’ গঠন করল বিপিসি

দুই দশক পর রংপুরে তারেক রহমান: আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনসভায় ভাষণ আজ

আপডেট সময় : ১২:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ২০ বছর পর উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু রংপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর নগরীর ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগজুড়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ জুমার নামাজ শেষে বগুড়া থেকে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান। জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি রংপুর নগরীর জনসভাস্থলে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জনসভাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে ব্যাপক প্রস্তুতি চলেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করার পাশাপাশি মাঠের চারদিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মাইক স্থাপন করা হয়েছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শহরজুড়ে শোভাবর্ধন করেছেন। জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি তদারকি করছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু জানান, তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে পুরো রংপুর বিভাগে গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখতে এবং তার কথা শুনতে সাধারণ মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা আশা করছি, এই জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। রংপুর দীর্ঘকাল ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামী দিনে এই অঞ্চলের বঞ্চনা দূর হবে এবং উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হবে।”

রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পীরগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যানের এই সফর আমাদের প্রার্থীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। শহীদ আবু সাঈদের পবিত্র ভূমি থেকে তিনি যে বার্তা দেবেন, তা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসভাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তারেক রহমানের আগমন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। নগরীর সাধারণ ভোটাররা আশা করছেন, এই জনসভার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আসবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে তাকে সরাসরি দেখার এবং তার বক্তব্য শোনার বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, আজকের এই নির্বাচনী জনসভা কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের অধিকার আদায়ের এক বিশাল সমাবেশে পরিণত হবে। তারেক রহমানের আগমনে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে রংপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।