ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিপ্লবের চেতনা ও দীর্ঘদিনের নাগরিক স্বাধীনতার সংকট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

‘ইরান’ নামটি উচ্চারণ করলেই পারস্যের প্রাচীন সাম্রাজ্যিক গৌরব, ইসলামের মহিমা, সুফি কাব্যের আধ্যাত্মিকতা, আধুনিক বিপ্লবের স্বপ্ন এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ ছায়ার মতো নানা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্তর একসঙ্গে ভেসে ওঠে। এই ভূখণ্ডে মানুষ কেবল নাগরিক নয়, তারা ইতিহাসের ধারক, ধর্মীয় কল্পনার উত্তরাধিকারী এবং রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার নির্মাতা। তবে, এই বহুমাত্রিক ঐতিহ্যের মাঝেও স্বাধীনতার প্রশ্নটি প্রায়শই স্থগিত হয়ে থেকেছে, যেন মুক্তি সর্বদা প্রতিশ্রুত অথচ অসম্পূর্ণ এক ভবিষ্যতের অপেক্ষায়। বর্তমান সময়ে ইরানের মুক্তিকামী জনতার প্রতি সংহতি প্রকাশ করা মানে কেবল একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তন কামনা করা নয়, বরং মানবমর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনের সর্বজনীন দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়া।

ইরানের ইতিহাসে ক্ষমতার রূপান্তর বারবার এলেও নাগরিক স্বাধীনতার ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠেনি। প্রাচীন আখেমেনীয় ও সাসানীয় সাম্রাজ্যের শাসন কাঠামোয় রাজকীয় কর্তৃত্বকে পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত করা হতো। ইসলামি যুগে সেই পবিত্রতা ধর্মীয় বৈধতায় রূপান্তরিত হয় এবং আধুনিক বিপ্লবের ভাষ্য সেই বৈধতাকে জনগণের নামে পুনর্লিখন করে। ইরান এমন এক ভূখণ্ড যেখানে ভূসম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকারের প্রশ্নটি কেবল অর্থনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা নৈতিক, ঐতিহাসিক ও দার্শনিক আত্মপরিচয়ের সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

উনিশ শতকের শেষভাগ এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ-নিয়ন্ত্রিত অ্যাংলো-ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি যেভাবে ইরানের ভূগর্ভস্থ সম্পদ শোষণ করেছিল, তা ঔপনিবেশিক অর্থনীতির এক ক্লাসিক উদাহরণ। ইরানের জাতীয় আয়ের একটি বিশাল অংশ তেল থেকে উৎপন্ন হলেও মুনাফা নির্ধারণের ক্ষমতা ছিল বিদেশি কর্পোরেট ব্যবস্থার হাতে, যা অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বণ্টনের প্রশ্নকে রাজনৈতিক ক্ষোভে পরিণত করে। এই পরিস্থিতিকে বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্বের আলোকে ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়, ইরানকে ‘পেরিফেরি’ বা আধা-পরিধি অঞ্চলের মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল, যেখানে সম্পদ কেন্দ্রীয় পুঁজিবাদী শক্তির দিকে সঞ্চালিত হতো, কিন্তু স্থানীয়ভাবে তার সুফল সীমিত থাকত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র চালানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ তাইওয়ানের কাছে নেই

ইরানের বিপ্লবের চেতনা ও দীর্ঘদিনের নাগরিক স্বাধীনতার সংকট

আপডেট সময় : ০৯:২৬:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

‘ইরান’ নামটি উচ্চারণ করলেই পারস্যের প্রাচীন সাম্রাজ্যিক গৌরব, ইসলামের মহিমা, সুফি কাব্যের আধ্যাত্মিকতা, আধুনিক বিপ্লবের স্বপ্ন এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ ছায়ার মতো নানা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্তর একসঙ্গে ভেসে ওঠে। এই ভূখণ্ডে মানুষ কেবল নাগরিক নয়, তারা ইতিহাসের ধারক, ধর্মীয় কল্পনার উত্তরাধিকারী এবং রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার নির্মাতা। তবে, এই বহুমাত্রিক ঐতিহ্যের মাঝেও স্বাধীনতার প্রশ্নটি প্রায়শই স্থগিত হয়ে থেকেছে, যেন মুক্তি সর্বদা প্রতিশ্রুত অথচ অসম্পূর্ণ এক ভবিষ্যতের অপেক্ষায়। বর্তমান সময়ে ইরানের মুক্তিকামী জনতার প্রতি সংহতি প্রকাশ করা মানে কেবল একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তন কামনা করা নয়, বরং মানবমর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনের সর্বজনীন দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়া।

ইরানের ইতিহাসে ক্ষমতার রূপান্তর বারবার এলেও নাগরিক স্বাধীনতার ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠেনি। প্রাচীন আখেমেনীয় ও সাসানীয় সাম্রাজ্যের শাসন কাঠামোয় রাজকীয় কর্তৃত্বকে পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত করা হতো। ইসলামি যুগে সেই পবিত্রতা ধর্মীয় বৈধতায় রূপান্তরিত হয় এবং আধুনিক বিপ্লবের ভাষ্য সেই বৈধতাকে জনগণের নামে পুনর্লিখন করে। ইরান এমন এক ভূখণ্ড যেখানে ভূসম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকারের প্রশ্নটি কেবল অর্থনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা নৈতিক, ঐতিহাসিক ও দার্শনিক আত্মপরিচয়ের সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

উনিশ শতকের শেষভাগ এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ-নিয়ন্ত্রিত অ্যাংলো-ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি যেভাবে ইরানের ভূগর্ভস্থ সম্পদ শোষণ করেছিল, তা ঔপনিবেশিক অর্থনীতির এক ক্লাসিক উদাহরণ। ইরানের জাতীয় আয়ের একটি বিশাল অংশ তেল থেকে উৎপন্ন হলেও মুনাফা নির্ধারণের ক্ষমতা ছিল বিদেশি কর্পোরেট ব্যবস্থার হাতে, যা অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বণ্টনের প্রশ্নকে রাজনৈতিক ক্ষোভে পরিণত করে। এই পরিস্থিতিকে বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্বের আলোকে ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়, ইরানকে ‘পেরিফেরি’ বা আধা-পরিধি অঞ্চলের মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল, যেখানে সম্পদ কেন্দ্রীয় পুঁজিবাদী শক্তির দিকে সঞ্চালিত হতো, কিন্তু স্থানীয়ভাবে তার সুফল সীমিত থাকত।