আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-৩ (বদলগাছী-মহাদেবপুর) আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্রই এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ভোট। দীর্ঘ দেড় দশক পর নিজেদের হারানো এই আসনটি পুনরুদ্ধারে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বিএনপি। তবে দলটির আনুষ্ঠানিক প্রার্থীর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আরেফীন সিদ্দিকী জনি।
নওগাঁ-৩ আসনটি একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা কয়েক মেয়াদে আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায় এবং আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে চলে যায়। এবারের নির্বাচনে এই হারানো গৌরব ফিরে পেতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুলকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ফজলে হুদা বাবুল তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা ও জেল-জুলুম সহ্য করেও তিনি সাধারণ মানুষের পাশ থেকে সরে যাননি। নির্বাচিত হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নসহ একটি দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং দুই উপজেলায় শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এই প্রার্থী। একইসঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার কড়া হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন তিনি।
তবে বিএনপির এই পথচলায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকীর বড় ছেলে পারভেজ আরেফীন সিদ্দিকী জনি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তার বাবার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আরেফীন সিদ্দিকী জনি তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। বহিষ্কার হওয়াকে তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবেই দেখছেন। তার দাবি, সাধারণ মানুষের অনুরোধেই তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। তার বাবা এই আসনে তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছিলেন, যা ভোটারদের মনে আজও গেঁথে আছে। বিশেষ করে মহাদেবপুরের জনগণের ওপর অগাধ আস্থা রেখে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সব মিলিয়ে নওগাঁ-৩ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে আসন পুনরুদ্ধারের লড়াই, অন্যদিকে ঘরের ভেতরেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর শক্ত অবস্থান। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কার গলায় জয়ের মালা পরাবেন, তা দেখতে এখন ভোটের দিনের অপেক্ষায় এই জনপদের মানুষ।
রিপোর্টারের নাম 
























