ঢাকা ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

দুই দশক পর রংপুর সফরে তারেক রহমান: আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও জনসভার প্রস্তুতি তুঙ্গে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ২০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র রংপুরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো বিভাগজুড়ে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মূলত জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত এবং রংপুরের উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ বার্তা দিতেই তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ আগমন।

দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে তারেক রহমান পীরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। সেখানে তিনি মরহুমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করবেন। এরপর তিনি রংপুর মহানগরীর ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানান, দলের চেয়ারম্যানের এই আগমনকে কেন্দ্র করে বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝেও প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই জনসভা রংপুরের ভাগ্য পরিবর্তনে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আশা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুরের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এই অঞ্চলটি বরাবরই অবহেলিত। বিএনপির নেতৃত্বে আগামী দিনে এই বঞ্চনা দূর করে একটি টেকসই ও আধুনিক রংপুর গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে তারেক রহমানের কাছে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় সচল করা, শিল্পায়নের জন্য গ্যাস সংযোগ প্রদান, কৃষিভিত্তিক প্রকল্প ও পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়ন। এছাড়া রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সড়ক সংযোগ এবং শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি বৃহৎ শিক্ষা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। বিশাল মঞ্চ নির্মাণের পাশাপাশি শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে মাইক ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা সার্বক্ষণিক মাঠের কার্যক্রম তদারকি করছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসভাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের একাধিক টিম মাঠ পরিদর্শন করেছে এবং সভাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে আজ চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’: হতদরিদ্রদের জন্য বিশেষ সুবিধা

দুই দশক পর রংপুর সফরে তারেক রহমান: আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও জনসভার প্রস্তুতি তুঙ্গে

আপডেট সময় : ০৬:০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ২০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র রংপুরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো বিভাগজুড়ে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মূলত জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত এবং রংপুরের উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ বার্তা দিতেই তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ আগমন।

দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে তারেক রহমান পীরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। সেখানে তিনি মরহুমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করবেন। এরপর তিনি রংপুর মহানগরীর ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানান, দলের চেয়ারম্যানের এই আগমনকে কেন্দ্র করে বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝেও প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই জনসভা রংপুরের ভাগ্য পরিবর্তনে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আশা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুরের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এই অঞ্চলটি বরাবরই অবহেলিত। বিএনপির নেতৃত্বে আগামী দিনে এই বঞ্চনা দূর করে একটি টেকসই ও আধুনিক রংপুর গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে তারেক রহমানের কাছে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় সচল করা, শিল্পায়নের জন্য গ্যাস সংযোগ প্রদান, কৃষিভিত্তিক প্রকল্প ও পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়ন। এছাড়া রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সড়ক সংযোগ এবং শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি বৃহৎ শিক্ষা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। বিশাল মঞ্চ নির্মাণের পাশাপাশি শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে মাইক ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা সার্বক্ষণিক মাঠের কার্যক্রম তদারকি করছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসভাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের একাধিক টিম মাঠ পরিদর্শন করেছে এবং সভাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।