ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নির্বাচনী প্রচারে সহিংসতা: প্রাণহানি-হামলায় উদ্বেগ, কঠোর অবস্থানে পুলিশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু হলেও সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দ্রুত বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তীব্র বাগ্‌যুদ্ধ এবং প্রচারে বাধা দেওয়ার ঘটনা এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এর ফলে কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন দলের কর্মী হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গত বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী সহিংসতায় একজনের প্রাণহানির পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেসব বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ব্যালটের মাধ্যমে, সহিংসতা বা রেষারেষির মাধ্যমে নয়। প্রাথমিকভাবে প্রার্থীর সমর্থকরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালালেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

পুলিশের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি এবং যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রচার কার্যক্রম শুরুর পর এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি জেলায় নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের বাকি সময়জুড়ে পুলিশি টহল জোরদার থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলো যাতে একই স্থানে সমাবেশ বা গণসংযোগ করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।

এছাড়াও থানা বা জেলা সদর থেকে দূরের যেসব এলাকায় প্রার্থীরা প্রচার চালাবেন, সেখানে আগেভাগেই পুলিশ মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সহিংসতায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, সাম্প্রতিক সহিংসতার পেছনে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর ইন্ধন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবশ্য, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার রাজারবাগে সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা যাতে না ঘটে, সেজন্য সব বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আইজিপি বাহারুল আলম গতকাল রাতে বলেছেন, নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালিয়েছে। এছাড়া শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হন। গত ২৭ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে সম্প্রতি সংঘর্ষে জড়ান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা।

ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর খিলক্ষেতের ডুমনি বাজারে গণসংযোগকালে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র আরও জানায়, কয়েক দিন আগে মিরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়ান। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কদমতলীতে এক নারী কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা পুলিশের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে পিকেট পার্টি ও মোবাইল টিমের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আগাম নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন বিমান বাহিনীর ড্রোন সরবরাহ করবে ট্রাম্পের ছেলেদের কোম্পানি

নির্বাচনী প্রচারে সহিংসতা: প্রাণহানি-হামলায় উদ্বেগ, কঠোর অবস্থানে পুলিশ

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু হলেও সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দ্রুত বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তীব্র বাগ্‌যুদ্ধ এবং প্রচারে বাধা দেওয়ার ঘটনা এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এর ফলে কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন দলের কর্মী হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গত বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী সহিংসতায় একজনের প্রাণহানির পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেসব বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ব্যালটের মাধ্যমে, সহিংসতা বা রেষারেষির মাধ্যমে নয়। প্রাথমিকভাবে প্রার্থীর সমর্থকরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালালেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

পুলিশের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি এবং যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রচার কার্যক্রম শুরুর পর এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি জেলায় নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের বাকি সময়জুড়ে পুলিশি টহল জোরদার থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলো যাতে একই স্থানে সমাবেশ বা গণসংযোগ করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।

এছাড়াও থানা বা জেলা সদর থেকে দূরের যেসব এলাকায় প্রার্থীরা প্রচার চালাবেন, সেখানে আগেভাগেই পুলিশ মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সহিংসতায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, সাম্প্রতিক সহিংসতার পেছনে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর ইন্ধন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবশ্য, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার রাজারবাগে সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা যাতে না ঘটে, সেজন্য সব বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আইজিপি বাহারুল আলম গতকাল রাতে বলেছেন, নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালিয়েছে। এছাড়া শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হন। গত ২৭ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে সম্প্রতি সংঘর্ষে জড়ান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা।

ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর খিলক্ষেতের ডুমনি বাজারে গণসংযোগকালে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র আরও জানায়, কয়েক দিন আগে মিরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়ান। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কদমতলীতে এক নারী কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা পুলিশের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে পিকেট পার্টি ও মোবাইল টিমের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আগাম নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।