বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়ন ও ন্যূনতম বাক্স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে দেশের আপামর জনতার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ছিল ‘জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের জাগরণ’। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
শুক্রবার ফেনী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাহিদুল ইসলাম তার ভাষ্যে, শহীদ ওসমান হাদী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে থাকা অদৃশ্য ও সূক্ষ্ম শক্তি (ডিপ স্টেট) নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, ডিপ স্টেট সম্পর্কে উপলব্ধি না হলে গণতন্ত্র মানুষের অধিকারের বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ইনসাফ অধরাই থেকে যাবে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আন্দোলনের প্রতীকী চিত্র হিসেবে শহীদ আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য মানুষের মনে গেঁথে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনকারীরা জীবনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি।
শহীদ পরিবারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগত শোকের চেয়ে বিচারহীনতার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের একমাত্র দাবি, বিগত সরকারের আমলের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা। তিনি ফেনীতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একটি মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যারা ওই মিছিলে অংশ নিচ্ছেন, তাদের লজ্জা থাকা উচিত। তিনি দাবি করেন, তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশ ছেড়ে চলে গেলেও তারা এখনো ঝুঁকি নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে ছাত্র-জনতার কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এতদিন সংযম দেখানো হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যদি কোনো পক্ষকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় বা পেশিশক্তির রাজনীতি উৎসাহিত করা হয়, তাহলে ছাত্র-জনতা আগের মতোই প্রতিক্রিয়া জানাবে। সবশেষে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদ বা নব্য ফ্যাসিবাদের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























