আড়াই বছর আগে নেওয়া নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করেই আবারও একই পদে বড় পরিসরে পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। আগের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল বা নিষ্পত্তি না করে নতুন করে এই আয়োজনের ফলে রাষ্ট্রের প্রায় ৬৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির এমন সিদ্ধান্তে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও নিয়োগ বাণিজ্যের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, উপসহকারী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার নতুন করে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের পরীক্ষায় দুই পদে মোট ৯ হাজার ৪০৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। অথচ ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল একই পদগুলোর জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল এবং ২০২৩ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) লিখিত পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছিল। সে সময় সহকারী প্রকৌশলী পদে ৬৭ জন উত্তীর্ণ হলেও তাদের মৌখিক পরীক্ষা আর নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, উপসহকারী প্রকৌশলী পদের ফলাফল রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ সময় ধরে আর প্রকাশই করেনি কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ উঠেছে, পূর্বের পরীক্ষার জন্য চুয়েটকে ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও এবার একই প্রক্রিয়ায় খরচ করা হচ্ছে ৬৭ লাখ টাকারও বেশি। সব মিলিয়ে এই নিয়োগ কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ব্যয়ের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একই পদের জন্য একবার রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করার পর পূর্বের পরীক্ষা বাতিল না করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া কেবল নিয়মবহির্ভূতই নয়, বরং জনগণের অর্থের অপচয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল্লাহর সময় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রশাসনের পছন্দের প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় সে সময় মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয় এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ঝুলিয়ে রাখা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২১ জনকে নিয়োগের তোড়জোড় শুরু হলে পুরনো প্রার্থীরা বিপাকে পড়েন। যদিও ২০২২ সালের আবেদনকারীদের নতুন করে আবেদনের প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে, তবে দীর্ঘ আড়াই বছর সময় ক্ষেপণ হওয়ায় অনেক প্রার্থীরই সরকারি চাকরির নির্ধারিত বয়স পার হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী চাকরিপ্রত্যাশীদের মতে, এটি এক ধরনের প্রশাসনিক প্রহসন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিন বছর আগে পরীক্ষা দিয়ে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করলাম, এখন শুনছি আবার পরীক্ষা দিতে হবে। আমাদের অনেকেরই এখন বয়স শেষ। আগের পরীক্ষা কেন বাতিল করা হলো বা কেন ফলাফল দেওয়া হলো না, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষ দেয়নি। এটি মূলত নতুন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্যের পথ তৈরি করা।”
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগম জানান, আগের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে সেটির সুনির্দিষ্ট উল্লেখ ছিল না এবং তৎকালীন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই পরীক্ষা নিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসন ওয়াসা বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রণালয়ের যথাযথ অনুমোদন নিয়ে নতুনভাবে এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে আগের আবেদনকারীদের এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























