ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

টেকনাফে কৃষি খেত থেকে অপহৃত ৬ কৃষক এখনো নিখোঁজ, উদ্ধারে পুলিশের অভিযান

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় সংলগ্ন কৃষি জমি থেকে অপহৃত ছয় কৃষকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অপহৃতদের উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও ওই কৃষকরা পাহাড়ের পাদদেশে নিজেদের কৃষি জমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এসময় হঠাৎ একদল সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী তাদের ঘিরে ফেলে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ের গহীন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। অপহৃতরা হলেন— ঝিমংখালী ও মিনাবাজার এলাকার মো. জমির (৬২), শফি আলম (১৩), মোহাম্মদ আলম ওরফে মাহাত আলম (১৮), জাহিদ হোসেন ওরফে মুন্না (৩০) এবং ঝিমংখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মোজাহের (৬০) ও মোস্তাক (১২)।

এ বিষয়ে হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল জানান, কৃষিকাজ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এভাবে অপহরণের শিকার হওয়ায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অসহায় এই পরিবারগুলোর সদস্যদের দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, চলমান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ নিচ্ছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী চক্রগুলো। নজরদারি কিছুটা শিথিল হওয়ায় অপহরণকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত এসব সন্ত্রাসীদের দমন করা না গেলে সাধারণ মানুষকে মুক্তিপণের জন্য বারবার এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের অপহরণের খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অপহৃতদের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তবে এখন পর্যন্ত অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে কোনো মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নকলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির করুণ মৃত্যু, পিকআপ আটক

টেকনাফে কৃষি খেত থেকে অপহৃত ৬ কৃষক এখনো নিখোঁজ, উদ্ধারে পুলিশের অভিযান

আপডেট সময় : ১০:৪০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় সংলগ্ন কৃষি জমি থেকে অপহৃত ছয় কৃষকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অপহৃতদের উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও ওই কৃষকরা পাহাড়ের পাদদেশে নিজেদের কৃষি জমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এসময় হঠাৎ একদল সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী তাদের ঘিরে ফেলে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ের গহীন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। অপহৃতরা হলেন— ঝিমংখালী ও মিনাবাজার এলাকার মো. জমির (৬২), শফি আলম (১৩), মোহাম্মদ আলম ওরফে মাহাত আলম (১৮), জাহিদ হোসেন ওরফে মুন্না (৩০) এবং ঝিমংখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মোজাহের (৬০) ও মোস্তাক (১২)।

এ বিষয়ে হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল জানান, কৃষিকাজ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এভাবে অপহরণের শিকার হওয়ায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অসহায় এই পরিবারগুলোর সদস্যদের দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, চলমান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ নিচ্ছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী চক্রগুলো। নজরদারি কিছুটা শিথিল হওয়ায় অপহরণকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত এসব সন্ত্রাসীদের দমন করা না গেলে সাধারণ মানুষকে মুক্তিপণের জন্য বারবার এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের অপহরণের খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অপহৃতদের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তবে এখন পর্যন্ত অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে কোনো মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।