সারা দেশে এখন বোরো ধান রোপণের ভরা মৌসুম। কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসলের মাঠ প্রস্তুত করতে। তবে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এক ভিন্ন ও হৃদয়বিদারক চিত্র ফুটে উঠেছে। অভাবের তাড়নায় হালের গরু বা ট্রাক্টর ভাড়া করতে না পেরে নিজেই কাঁধে মই তুলে নিয়েছেন প্রান্তিক কৃষক সিরাজ মিয়া।
উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া। পেশায় বর্গাচাষি এই কৃষক এবার প্রায় ৮০ শতক জমিতে বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী চারা রোপণের আগে জমির কাদা-মাটি সমান করতে মই দিতে হয়। কিন্তু বর্তমান বাজারে কৃষি উপকরণের ঊর্ধ্বগতি এবং চরম আর্থিক সংকটের কারণে হালের গরু কিংবা যান্ত্রিক ট্রাক্টর ভাড়া করার সামর্থ্য নেই তার। ফলে বাধ্য হয়েই অমানুষিক পরিশ্রমে নিজেই মই টেনে জমি চাষোপযোগী করার চেষ্টা করছেন তিনি।
সাধারণত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয় এবং জানুয়ারি নাগাদ চলে চারা রোপণের কাজ। এপ্রিল-মে মাসে ঘরে ওঠে পাকা ধান। বর্তমানে চারা রোপণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে খরচের বোঝা টানতে হিমশিম খাচ্ছেন সিরাজ মিয়ার মতো অনেক দরিদ্র কৃষক।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সিরাজ মিয়া জানান, হাড়ভাঙা খাটুনি দিলেও তার ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি প্রণোদনা। এমনকি তিনি কোনো ‘কৃষক কার্ড’ বা সরকারি সুযোগ-সুবিধাও পাননি। তিনি বলেন, “বর্গা নেওয়া জমিতে আবাদের জন্য অনেক কষ্ট করছি। টাকার অভাবে নিজেই মই টানতে হচ্ছে। বন্যার সময় সরকারি সহায়তার আশায় আইডি কার্ড ও ছবি জমা দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো সার বা বীজ কপালে জোটেনি।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত কৃষকরা প্রায়ই সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকেন। স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় অকৃষক বা মৌসুমি চাষিরা প্রণোদনা পেলেও সিরাজ মিয়ার মতো প্রান্তিক চাষিরা অবহেলিত থেকে যান। প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জুবায়ের আহমেদ জানান, বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, সরেজমিনে সিরাজ মিয়ার অবস্থা পরিদর্শন করে তাকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 























