চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে দীর্ঘ চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর মুহাম্মদ মিসবাহ (৪) নামের এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাকে গর্ত থেকে তুলে আনেন। তবে উদ্ধারকালে শিশুটি জীবিত ছিল নাকি মৃত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামের বড়ুয়া পাড়া এলাকায় বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দিনমজুর সাইফুল আলমের চার বছর বয়সী ছেলে মিসবাহ খেলতে গিয়ে ওই গভীর গর্তে পড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত বসতঘরের পাশে সুপেয় পানির জন্য একটি গভীর নলকূপ বসানো হচ্ছিল। টিলাভূমি হওয়ায় পানির উৎস পেতে সেখানে বেশ গভীর একটি গর্ত খনন করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গর্তটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় ছিল এবং এর ফলে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। খেলতে খেলতে শিশু মিসবাহ অসাবধানতাবশত সেই গর্তে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী তালেব জানান, শিশুটি গর্তে পড়ার পরপরই তারা তার কান্নার শব্দ শুনতে পান। কিন্তু গর্তটি এতটাই গভীর ছিল যে, স্থানীয়দের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে শিশুটি গর্তের আরও গভীরে তলিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাউজান ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, তারা খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয়রা তাদের শিশুর কান্নার শব্দ শোনার কথা জানান। ওসি ধারণা করেন, শিশুটি গভীর গর্তে আটকা পড়েছিল। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আবদুল মান্নান ও রাউজান ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শামসুল আলম জানান, ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয় এবং শিশুটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত তাদের তৎপরতা অব্যাহত ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই সন্তানের মধ্যে মিসবাহ ছিল সবার ছোট। তার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রিপোর্টারের নাম 























