ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

তিন পার্বত্য জেলায় ই-লার্নিং কার্যক্রমের উদ্বোধন: ‘বঞ্চিত থাকার কোনো কারণ নেই’— প্রধান উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া পৌঁছে দিতে এক ঐতিহাসিক ই-লার্নিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার তিনটি প্রাথমিক এবং নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি এই কার্যক্রমের সূচনা করেন। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত আবেগের সাথে বলেন, “সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে, অথচ তোমাদের ওখানে তা আগে পৌঁছায়নি। এজন্য পূর্ববর্তী ব্যবস্থা দায়ী এবং আমরা এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আজ মাত্র ১২টি স্কুল নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য এটি সাড়ে তিন হাজার স্কুলে পৌঁছে দেওয়া। আমাদের খুব দ্রুত সেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের অন্য অঞ্চলের নাগরিকরা যে অধিকার ভোগ করেন, পাহাড়ের শিক্ষার্থীরাও ঠিক একই অধিকার পাবে। কাউকে পিছিয়ে রাখা হবে না এবং বঞ্চিত থাকার আর কোনো কারণ নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষকের সংকট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সংকট নিরসনে ই-লার্নিং চমৎকার সমাধান হবে বলে ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভালো শিক্ষকরা অনেক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ভয়ে দুর্গম এলাকায় যেতে চান না, কিন্তু এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারবেন। শিক্ষার পাশাপাশি তিনি ইন্টারনেটের বহুমুখী সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেকোনো জায়গা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে রাঙামাটির রানী দয়াময়ী উচ্চবিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মোট ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নির্বাচিত ১৪৯টি বিদ্যালয়ে এই ই-লার্নিং সুবিধা চালু করা হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এই উদ্যোগকে শিক্ষার নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চল পুরো বাংলাদেশ এবং গোটা বিশ্বের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। ই-লার্নিং সুবিধা চালু হওয়ায় দুর্গম পাহাড়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে এবং তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুঝুঁকি ও লিবিয়ার ‘গেম ঘরে’ বন্দি বাংলাদেশিরা

তিন পার্বত্য জেলায় ই-লার্নিং কার্যক্রমের উদ্বোধন: ‘বঞ্চিত থাকার কোনো কারণ নেই’— প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১১:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া পৌঁছে দিতে এক ঐতিহাসিক ই-লার্নিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার তিনটি প্রাথমিক এবং নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি এই কার্যক্রমের সূচনা করেন। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত আবেগের সাথে বলেন, “সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে, অথচ তোমাদের ওখানে তা আগে পৌঁছায়নি। এজন্য পূর্ববর্তী ব্যবস্থা দায়ী এবং আমরা এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আজ মাত্র ১২টি স্কুল নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য এটি সাড়ে তিন হাজার স্কুলে পৌঁছে দেওয়া। আমাদের খুব দ্রুত সেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের অন্য অঞ্চলের নাগরিকরা যে অধিকার ভোগ করেন, পাহাড়ের শিক্ষার্থীরাও ঠিক একই অধিকার পাবে। কাউকে পিছিয়ে রাখা হবে না এবং বঞ্চিত থাকার আর কোনো কারণ নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষকের সংকট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সংকট নিরসনে ই-লার্নিং চমৎকার সমাধান হবে বলে ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভালো শিক্ষকরা অনেক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ভয়ে দুর্গম এলাকায় যেতে চান না, কিন্তু এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারবেন। শিক্ষার পাশাপাশি তিনি ইন্টারনেটের বহুমুখী সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেকোনো জায়গা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে রাঙামাটির রানী দয়াময়ী উচ্চবিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মোট ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নির্বাচিত ১৪৯টি বিদ্যালয়ে এই ই-লার্নিং সুবিধা চালু করা হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এই উদ্যোগকে শিক্ষার নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চল পুরো বাংলাদেশ এবং গোটা বিশ্বের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। ই-লার্নিং সুবিধা চালু হওয়ায় দুর্গম পাহাড়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে এবং তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।