আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণার প্রথম সপ্তাহেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। লক্ষ্মীপুর, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহ ও ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিএনপি, জামায়াত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে।
বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ও রাজপথের লড়াই এখন চরমে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জামায়াত ‘ধর্মীয় অনুভূতি’ ব্যবহার করে এবং প্রতীককে ‘ঈমানি দায়িত্ব’ হিসেবে প্রচার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে, জামায়াত দাবি করেছে যে তাদের নারী কর্মীদের প্রচারের সময় নাজেহাল করা হচ্ছে এবং নেকাব খোলার মতো অবমাননাকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে যে ঢাকা-১৮ আসনে তাদের প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনাটি মূলত ‘ভোটকেন্দ্র দখলের মহড়া’ বা প্র্যাকটিস ম্যাচ। তারা মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে দলগুলোর ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ উপেক্ষা করা কমিশনের জন্য বিপদজনক হতে পারে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, ক্ষুদ্র অভিযোগকেও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত, নতুবা জনগণের মধ্যে কমিশনের ‘গা ছাড়া ভাব’ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে বলে দাবি করছে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ সন্তোষজনক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা পেলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব। ইসি সচিব আখতার আহমেদ ঢালাও অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনী তদন্ত কমিটিকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























