ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রচারণায় তুঙ্গে বাগযুদ্ধ: ‘পালিয়ে যাওয়া’ ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে মুখর শীর্ষ নেতারা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশব্যাপী বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ঢাকা থেকে শুরু করে সিলেট, চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। প্রচারণার পঞ্চম দিনে এসে ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘খোঁচা’ দিয়ে দেওয়া বক্তব্যগুলো রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে কারা দেশের সংকটে পাশে ছিলেন আর কারা বিদেশ পালিয়েছেন—এই ইস্যুটি এখন আলোচনার তুঙ্গে।

গাইবান্ধার এক জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শত জুলুমের শিকার হলেও তাঁর দলের নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। এর পাল্টা জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হবিগঞ্জের এক সমাবেশে বলেন, কেউ বিপদে পড়লে দিল্লি যান, কেউবা পিন্ডি (পাকিস্তান); কিন্তু খালেদা জিয়া মৃত্যুকে পরোয়া না করে দেশেই থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, তর্কের খাতিরে আলোচনা হতে পারে, তবে তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কর্মী পর্যায়ে সহিংসতা তৈরি না করে।

এদিকে, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনী মাঠে এখনও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নেই এবং তাঁদের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তবে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তরুণদের এই সরকারে বৈষম্যের সুযোগ নেই। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাফ জানিয়েছে, বড় দলের নেতাদের প্রচারণা থামিয়ে দেওয়া বা সব দলের পোস্টার অপসারণের মাধ্যমে ইসি নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ৩০০টি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে তা পেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

প্রচারণার ডামাডোলে মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা সমসাময়িক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনীতিবিদদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে বাগেরহাটে এক পরিবারের করুণ মৃত্যু, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিংবা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার মতো ইস্যুগুলো নির্বাচনী বক্তৃতায় ব্রাত্যই থেকে যাচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কেবল ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত না থেকে জনগণের দৈনন্দিন কষ্টের প্রতিফলন প্রার্থীদের ইশতেহার ও বক্তৃতায় থাকা জরুরি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতপার্থক্য

প্রচারণায় তুঙ্গে বাগযুদ্ধ: ‘পালিয়ে যাওয়া’ ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে মুখর শীর্ষ নেতারা

আপডেট সময় : ০৯:১৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশব্যাপী বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ঢাকা থেকে শুরু করে সিলেট, চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। প্রচারণার পঞ্চম দিনে এসে ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘খোঁচা’ দিয়ে দেওয়া বক্তব্যগুলো রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে কারা দেশের সংকটে পাশে ছিলেন আর কারা বিদেশ পালিয়েছেন—এই ইস্যুটি এখন আলোচনার তুঙ্গে।

গাইবান্ধার এক জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শত জুলুমের শিকার হলেও তাঁর দলের নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। এর পাল্টা জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হবিগঞ্জের এক সমাবেশে বলেন, কেউ বিপদে পড়লে দিল্লি যান, কেউবা পিন্ডি (পাকিস্তান); কিন্তু খালেদা জিয়া মৃত্যুকে পরোয়া না করে দেশেই থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, তর্কের খাতিরে আলোচনা হতে পারে, তবে তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কর্মী পর্যায়ে সহিংসতা তৈরি না করে।

এদিকে, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনী মাঠে এখনও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নেই এবং তাঁদের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তবে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তরুণদের এই সরকারে বৈষম্যের সুযোগ নেই। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাফ জানিয়েছে, বড় দলের নেতাদের প্রচারণা থামিয়ে দেওয়া বা সব দলের পোস্টার অপসারণের মাধ্যমে ইসি নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ৩০০টি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে তা পেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

প্রচারণার ডামাডোলে মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা সমসাময়িক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনীতিবিদদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে বাগেরহাটে এক পরিবারের করুণ মৃত্যু, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিংবা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার মতো ইস্যুগুলো নির্বাচনী বক্তৃতায় ব্রাত্যই থেকে যাচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কেবল ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত না থেকে জনগণের দৈনন্দিন কষ্টের প্রতিফলন প্রার্থীদের ইশতেহার ও বক্তৃতায় থাকা জরুরি।