ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনী কার্যক্রমে নারী কর্মীদের হয়রানি ও শিক্ষকদের বাধাদান: ইসিকে জামায়াতের অভিযোগ

ঢাকা-১৫ আসনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও অপদস্থ করার অভিযোগ জানিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। সোমবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীরা যখন নির্বাচনী কাজে বের হচ্ছেন, তখন তাদের ওপর হামলা ও অপদস্থ করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে তাদের নেকাব খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং অনেকের হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। জামায়াত নেতা আরও উল্লেখ করেন যে, মোট ভোটারের অর্ধেক নারী হওয়ায় নারী কর্মীদের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা বেশি স্বস্তিদায়ক। নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ভোট আয়োজনে ভূমিকা রাখাকে ইতিবাচক দিক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একটি নির্দিষ্ট দল তাদের নারী কর্মীদের প্রতি মারাত্মক ধরনের আচরণ করছে, যা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। তিনি জানান, স্ব স্ব এলাকাতেও অভিযোগ জানানো হয়েছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে আশানুরূপ ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনী কাজে বের হলে স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা, এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটরাও তাদের কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন এবং কাউকে কাউকে জরিমানা করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন, তাহলে তিনি কেন ভোট কর্মী হতে পারবেন না? ইসি বিষয়টি শুনে আশ্চর্য হয়েছে এবং এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি ব্যাখ্যা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। আইনি ব্যাখ্যার এই সমস্যার কারণে একজন শিক্ষকের সম্মানহানি হোক, এটা কেউই চায় না বলে মন্তব্য করেন জুবায়ের।

নারীদের দিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এই ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই এবং দল থেকে এমন কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি।

তিনি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বর্তমানে নারী, বিশেষ করে তরুণ-যুবক-যুবতী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অসাধারণ সমর্থন রয়েছে, যা গ্রাম অঞ্চল থেকে শুরু করে সারা দেশেই দৃশ্যমান। তার ধারণা, এই ব্যাপক সমর্থনের কারণেই একটি বড় দল তাদের প্রতি এমন আচরণ করছে।

জামায়াতে ইসলামী থেকে কোনো নারী প্রার্থী দেওয়া হয়নি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, তাদের দলে ৪০ শতাংশই নারী কর্মী, যা অন্য কোনো দলে বিরল। তিনি বলেন, জামায়াতের দলীয় সংস্কৃতিতে নিজ থেকে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। মাঠ পর্যায় থেকে যেসব প্রস্তাবনা আসে, সেগুলোর আলোকেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে তাদের সামগ্রিক বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে নারী প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালের কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ: ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত এক স্থাপত্য

নির্বাচনী কার্যক্রমে নারী কর্মীদের হয়রানি ও শিক্ষকদের বাধাদান: ইসিকে জামায়াতের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-১৫ আসনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও অপদস্থ করার অভিযোগ জানিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। সোমবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীরা যখন নির্বাচনী কাজে বের হচ্ছেন, তখন তাদের ওপর হামলা ও অপদস্থ করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে তাদের নেকাব খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং অনেকের হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। জামায়াত নেতা আরও উল্লেখ করেন যে, মোট ভোটারের অর্ধেক নারী হওয়ায় নারী কর্মীদের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা বেশি স্বস্তিদায়ক। নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ভোট আয়োজনে ভূমিকা রাখাকে ইতিবাচক দিক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একটি নির্দিষ্ট দল তাদের নারী কর্মীদের প্রতি মারাত্মক ধরনের আচরণ করছে, যা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। তিনি জানান, স্ব স্ব এলাকাতেও অভিযোগ জানানো হয়েছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে আশানুরূপ ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনী কাজে বের হলে স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা, এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটরাও তাদের কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন এবং কাউকে কাউকে জরিমানা করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন, তাহলে তিনি কেন ভোট কর্মী হতে পারবেন না? ইসি বিষয়টি শুনে আশ্চর্য হয়েছে এবং এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি ব্যাখ্যা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। আইনি ব্যাখ্যার এই সমস্যার কারণে একজন শিক্ষকের সম্মানহানি হোক, এটা কেউই চায় না বলে মন্তব্য করেন জুবায়ের।

নারীদের দিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এই ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই এবং দল থেকে এমন কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি।

তিনি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বর্তমানে নারী, বিশেষ করে তরুণ-যুবক-যুবতী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অসাধারণ সমর্থন রয়েছে, যা গ্রাম অঞ্চল থেকে শুরু করে সারা দেশেই দৃশ্যমান। তার ধারণা, এই ব্যাপক সমর্থনের কারণেই একটি বড় দল তাদের প্রতি এমন আচরণ করছে।

জামায়াতে ইসলামী থেকে কোনো নারী প্রার্থী দেওয়া হয়নি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, তাদের দলে ৪০ শতাংশই নারী কর্মী, যা অন্য কোনো দলে বিরল। তিনি বলেন, জামায়াতের দলীয় সংস্কৃতিতে নিজ থেকে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। মাঠ পর্যায় থেকে যেসব প্রস্তাবনা আসে, সেগুলোর আলোকেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে তাদের সামগ্রিক বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে নারী প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।