চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তাঁদের কাছে জীবনের চেয়ে মা-বোনদের ইজ্জতের দাম অনেক বেশি। যেকোনো বেয়াদবি করলে আগুনের ফুলকি দেখতে পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ ফ্যাসিবাদী চেহারা নিয়ে সামনে আসে, তাহলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের সম্মিলিত জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে, যেভাবে ‘২৪ সালের ফ্যাসিবাদকে দেখানো হয়েছিল।
সোমবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হিমালয় পর্বতের সামনেও মাথা নত করে না; তারা কেবল মহান আল্লাহ তায়া’লার সামনেই মাথা নত করে। তাই ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে কোনো লাভ নেই।
জামায়াত আমির চুয়াডাঙ্গাবাসীর উদ্দেশে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে একদিনে দুটি ভোট হবে—একটি সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং আরেকটি ‘পরিবর্তনের বাংলাদেশ’-এর পক্ষের ভোট। তিনি ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী এবং ‘না’ মানে গোলামী উল্লেখ করে উপস্থিত জনতার কাছে ‘আজাদী’র পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান ‘শহীদ ওসমান হাদী’কে জুলাই আন্দোলনের আরেক নায়ক ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, আপসহীনতার কারণে তাঁকে সহ্য করতে না পেরে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারী, বিদেশে বেগমপাড়া ও সিঙ্গাপুর-কানাডা নির্মাণকারী এবং দেশকে সমুদ্রের তলে ডুবিয়ে দেওয়া ব্যক্তিদের তীব্র সমালোচনা করেন। জামায়াত ক্ষমতায় এলে কোনো নেতাকর্মীর সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রতি বছর জনগণের সামনে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দিতে বাধ্য থাকবেন।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন বলেন, ‘২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে বাংলার জনগণ জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায় এবং ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভা সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাড. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, এ.বি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এন.সি.পি-র যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মো. মোহাম্মদ ফারুক এহসান, চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গার আহ্বায়ক তানভীর রহমান অনিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের খান, এন.সি.পি-র চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি (প্রস্তাবিত) সোহেল পারভেজ এবং চুয়াডাঙ্গার ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের আহ্বায়ক মাহফুজ হোসেন।
এর আগে বেলা ৩টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল হক মালিক এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদসহ উপজেলা আমির ও জেলা কর্মপরিষদের সদস্যরাও বক্তব্য রাখেন।
জনসভার আগে বেলা ২টার দিকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে চুয়াডাঙ্গা চাঁদমারি মাঠে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। বেলা ৩টা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে চুয়াডাঙ্গার ঐতিহাসিক টাউন ফুটবল মাঠে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। ডা. শফিকুর রহমান টাউন মাঠে পৌঁছানোর আগেই মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
নির্বাচনি সভা শেষে জামায়াত আমির জনসভায় আগত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী রুহুল আমিনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। এ সময় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























