ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

উপকূলীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১২ দফা ‘খুলনা ঘোষণা’: শেষ হলো পানি সম্মেলন

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও পানি-সংক্রান্ত বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিন দিনব্যাপী নিবিড় সংলাপ, জ্ঞান বিনিময় এবং নীতিগত আলোচনার মধ্য দিয়ে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ৩য় উপকূলীয় পানি সম্মেলন ২০২৬। সমাপনী দিনে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আয়োজিত পূর্ণাঙ্গ সমাপনী অধিবেশনে সম্মেলন থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলোকে একত্রিত করে সম্মিলিত ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য একটি দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্মেলনের অন্যতম প্রধান অর্জন হিসেবে সমাপনী অধিবেশনে ‘৩য় উপকূলীয় পানি সম্মেলন কমিটি’র সদস্য সচিব ও অ্যাওসেড’র নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফীন আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ দফা খসড়া ‘খুলনা ঘোষণা’ উপস্থাপন করেন। এই ঘোষণাপত্রে পানি ন্যায়বিচার, জলবায়ু সহনশীলতা, প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা সম্মেলনে উঠে আসা সম্মিলিত অগ্রাধিকার ও সুপারিশসমূহকে প্রতিফলিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম সমাপনী অধিবেশন সঞ্চালনা করেন। বিষয়ভিত্তিক অধিবেশনগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন কোস্টাল ভয়েস অব বাংলাদেশ-এর আবুহেনা মোস্তফা জামাল, ডর্প-এর মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান, ওয়াশ বিশেষজ্ঞ মো. জাহিদুর রহমান এবং কুয়েট-এর ড. তুষার কান্তি রায়।

খসড়া খুলনা ঘোষণার ওপর পরিপূরক মতামত প্রদান করেন লিডার্স-এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ-এর জলবায়ু ও সহনশীলতা বিষয়ক থিম্যাটিক লিড তামান্না রহমান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সি-থ্রি-ই-আর-এর সহকারী পরিচালক রউফা খানম, ডর্প-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান এবং আইসিসিসিএডি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব হক। বক্তারা ঘোষণাটিকে একটি কার্যকর অঙ্গীকারে রূপ দেওয়া, বহু অংশীজনের সহযোগিতা জোরদার করা এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন।

সম্মেলনের সহ-সভাপতি এবং রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন সংহতি বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন ওয়াটারএইড-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক খায়রুল ইসলাম। তিনি এই অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ পানি সম্মেলন ২০২৮-এর জন্য একটি সফল ও কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

১২ দফা ‘খুলনা ঘোষণা’ উপস্থাপন এবং সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে ৩য় উপকূলীয় পানি সম্মেলন ২০২৬ সমাপ্ত হয়। একই সাথে, বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহনশীলতা, ন্যায়সংগততা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উপকূলীয় পানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের নতুন আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নিজ বাড়ির পথে আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা, শোক ও ক্ষোভের ছায়া

উপকূলীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১২ দফা ‘খুলনা ঘোষণা’: শেষ হলো পানি সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৭:০১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও পানি-সংক্রান্ত বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিন দিনব্যাপী নিবিড় সংলাপ, জ্ঞান বিনিময় এবং নীতিগত আলোচনার মধ্য দিয়ে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ৩য় উপকূলীয় পানি সম্মেলন ২০২৬। সমাপনী দিনে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আয়োজিত পূর্ণাঙ্গ সমাপনী অধিবেশনে সম্মেলন থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলোকে একত্রিত করে সম্মিলিত ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য একটি দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্মেলনের অন্যতম প্রধান অর্জন হিসেবে সমাপনী অধিবেশনে ‘৩য় উপকূলীয় পানি সম্মেলন কমিটি’র সদস্য সচিব ও অ্যাওসেড’র নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফীন আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ দফা খসড়া ‘খুলনা ঘোষণা’ উপস্থাপন করেন। এই ঘোষণাপত্রে পানি ন্যায়বিচার, জলবায়ু সহনশীলতা, প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা সম্মেলনে উঠে আসা সম্মিলিত অগ্রাধিকার ও সুপারিশসমূহকে প্রতিফলিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম সমাপনী অধিবেশন সঞ্চালনা করেন। বিষয়ভিত্তিক অধিবেশনগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন কোস্টাল ভয়েস অব বাংলাদেশ-এর আবুহেনা মোস্তফা জামাল, ডর্প-এর মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান, ওয়াশ বিশেষজ্ঞ মো. জাহিদুর রহমান এবং কুয়েট-এর ড. তুষার কান্তি রায়।

খসড়া খুলনা ঘোষণার ওপর পরিপূরক মতামত প্রদান করেন লিডার্স-এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ-এর জলবায়ু ও সহনশীলতা বিষয়ক থিম্যাটিক লিড তামান্না রহমান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সি-থ্রি-ই-আর-এর সহকারী পরিচালক রউফা খানম, ডর্প-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান এবং আইসিসিসিএডি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব হক। বক্তারা ঘোষণাটিকে একটি কার্যকর অঙ্গীকারে রূপ দেওয়া, বহু অংশীজনের সহযোগিতা জোরদার করা এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন।

সম্মেলনের সহ-সভাপতি এবং রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন সংহতি বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন ওয়াটারএইড-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক খায়রুল ইসলাম। তিনি এই অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ পানি সম্মেলন ২০২৮-এর জন্য একটি সফল ও কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

১২ দফা ‘খুলনা ঘোষণা’ উপস্থাপন এবং সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে ৩য় উপকূলীয় পানি সম্মেলন ২০২৬ সমাপ্ত হয়। একই সাথে, বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহনশীলতা, ন্যায়সংগততা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উপকূলীয় পানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের নতুন আহ্বান জানানো হয়েছে।