ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

তালতলীতে আমখোলা খাল দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে, বিপাকে হাজারো কৃষক

বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের আমখোলা খালটি দখল, দূষণ এবং ভরাটের কারণে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রভাবশালীদের দখলে খালটি এখন মৃতপ্রায়। তাই খালটি দ্রুত দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই আমখোলা খালটি একসময় সোনাকাটা ইউনিয়নের আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া এবং বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার এবং পলি ও কচুরিপানা জমে খালটি দূষিত ও ভরাট হয়ে গেছে। দখলদারদের থাবা এবং পলি জমে খালটি সরু নালায় পরিণত হওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা ফসলি জমি ও ধানের বীজতলা নষ্ট করছে। বছরের পর বছর লোকসান গুনতে গুনতে দিশেহারা কৃষকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের আগ্রাসন ও প্রশাসনের উদাসীনতায় খালটি এখন মৃতপ্রায়। তারা খালটি অবিলম্বে দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জানান।

খালের পানি দিয়ে একসময় সেচ কাজ হতো এবং বর্ষার পানি সহজে নেমে যেত উল্লেখ করে স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এখন প্রভাবশালীরা বাঁধ দিয়ে খাল আটকে মাছ শিকার করছে। ফলে জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হচ্ছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে কথা বললে অপপ্রচার ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির শিকার হতে হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খালটি দ্রুত উদ্ধার করা হবে এবং স্বাভাবিক পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে শীঘ্রই পুনঃখননের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গিয়ে নেত্রকোণায় একজনের মৃত্যু

তালতলীতে আমখোলা খাল দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে, বিপাকে হাজারো কৃষক

আপডেট সময় : ১১:২০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের আমখোলা খালটি দখল, দূষণ এবং ভরাটের কারণে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রভাবশালীদের দখলে খালটি এখন মৃতপ্রায়। তাই খালটি দ্রুত দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই আমখোলা খালটি একসময় সোনাকাটা ইউনিয়নের আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া এবং বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার এবং পলি ও কচুরিপানা জমে খালটি দূষিত ও ভরাট হয়ে গেছে। দখলদারদের থাবা এবং পলি জমে খালটি সরু নালায় পরিণত হওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা ফসলি জমি ও ধানের বীজতলা নষ্ট করছে। বছরের পর বছর লোকসান গুনতে গুনতে দিশেহারা কৃষকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের আগ্রাসন ও প্রশাসনের উদাসীনতায় খালটি এখন মৃতপ্রায়। তারা খালটি অবিলম্বে দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জানান।

খালের পানি দিয়ে একসময় সেচ কাজ হতো এবং বর্ষার পানি সহজে নেমে যেত উল্লেখ করে স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এখন প্রভাবশালীরা বাঁধ দিয়ে খাল আটকে মাছ শিকার করছে। ফলে জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হচ্ছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে কথা বললে অপপ্রচার ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির শিকার হতে হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খালটি দ্রুত উদ্ধার করা হবে এবং স্বাভাবিক পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে শীঘ্রই পুনঃখননের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।