ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে নদীভাঙনের কারণে। বিশেষ করে ছোট ফেনী, ফেনী এবং কালীদাস পাহালিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে চলছে তীব্র ভাঙন। টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে প্রতিদিনই ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এর ফলে সোনাগাজী, দাগনভূঞা ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকার লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সোনাগাজীর চর গোপালগাঁওয়ের আবুল কাশেমের মতো অনেকেই হারিয়েছেন তাদের বসতভিটা। গেল এক বছরে তিনবার ঘর হারিয়ে বর্তমানে একটি ছাউনি তৈরি করে কোনোরকমে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। একই পাড়ার রোকেয়া বেগমের গল্প আরও করুণ; বাড়ির আঙিনায় থাকা স্বামীর কবরটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি জানান, ‘সন্তানরা বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে জিয়ারত করবে, সেই সুযোগও নেই। আমাদের জীবন বাঁচন নয়।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অব্যাহত এই ভাঙনে সোনাগাজীর চরমজলিশপুর, চরদরবেশ, চরচান্দিয়া, বগদানা এবং আমিরাবাদ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানেও নদীভাঙনের আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া মুসাপুর ক্লোজার পুনর্নির্মাণ না করলে স্থায়ী সমাধান মিলবে না। এই ভাঙন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সোনাগাজী উপজেলা আরও ছোট হয়ে আসবে এবং এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























