ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচনকে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার শাহবাগ থানার ৩৭নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ এবং বিআইডব্লিউটিসি শ্রমিক দল আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি জনগণের সঙ্গে নিয়ে নিজ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আন্দোলন করছে। আমাদের জোট ও সহযোগী দল থাকা সত্ত্বেও বিএনপির শক্তিকে ভয় পেয়ে কিছু দল আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ক্ষমতায় আসার আগেই অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাদের দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে এবং এই সময়ে নেতাকর্মীরা শান্তিতে থাকতে পারেননি। প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এত কিছুর পর যখন নির্বাচন এসেছে, তখন আবারও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে এবং বর্তমানে তারেক রহমান এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মির্জা আব্বাস আরও বলেন, আমরা অনেক সময় নেতৃত্বের সংকটে পড়লেও দলের নেতৃত্বে কখনও শূন্যতা তৈরি হয়নি। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান সেই শূন্যতা কখনও বুঝতে দেননি। শহীদ রাষ্ট্রপতি ও খালেদা জিয়ার মতো অবদান তারেক রহমানও রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং নেতাকর্মীদের তার প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য নিজেদেরকেই সোচ্চার হতে হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে ২১নং ওয়ার্ডের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র গলিতে যুবকদের সঙ্গে গণসংযোগকালে মির্জা আব্বাস কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার কৌশল শিখতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে এখন খুব ভালো আয় করা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “চাকরি সবসময় সমাধান নয়, বরং নিজেকে এমনভাবে তৈরি করো যেন তুমি ভবিষ্যতে ১০০ জনকে চাকরি দিতে পারো।” নিজের কৌশল, দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রে নিজেদের উন্নত করার ওপর তিনি জোর দেন।
পেশাজীবীদের চাকরির পেছনে ছোটা নিয়ে আক্ষেপ করে মির্জা আব্বাস বলেন, একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার যখন ব্যাংকে চাকরি খুঁজতে আসেন, তখন আমার কষ্ট হয়। তিনি তাদের নিজ নিজ শিক্ষাকে জাতি ও মানুষের সেবায় লাগানোর আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি বলেন, নিজেকে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং দেশের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে হবে। চাকরি বড় বিষয় না হলেও দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য ও দক্ষ মানুষের প্রয়োজন, এবং আমাদের সেই যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করা উচিত।
রিপোর্টারের নাম 
























