ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

‘দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে গণভোটে ‘না’ ভোট দিন’: রংপুরে জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে একটি বিশেষ দলকে নির্বাচনি সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের ওপর ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর স্কাইভিউ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জি এম কাদের এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটে সরকারি ক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রভাব এবং নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মানুষকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এই গণভোটকে সংবিধানবহির্ভূত বলে দাবি করেন।

জি এম কাদের তাঁর বক্তব্যে আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, “যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট পাস করানো হয়, তাহলে জাতীয় সংসদ আর সার্বভৌম ও স্বাধীন থাকবে না। সংসদ তখন একটি নির্দিষ্ট শক্তির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তাই দেশ, গণতন্ত্র এবং সার্বভৌমত্ব বাঁচাতে জাতীয় পার্টি এই গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এটি কোনো দলীয় ইস্যু নয়, বরং দেশের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।” তিনি যেকোনো মূল্যে ‘না’ ভোটকে জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মাঠে নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, অথচ নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও নির্বাক হয়ে আছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ। কিন্তু বাস্তবে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে গিয়ে অন্য দলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে চাপে রাখা হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচন জনগণের কাছে কখনোই বিশ্বাসযোগ্য হবে না।”

জি এম কাদের আরও দাবি করেন, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও জাতীয় পার্টির পক্ষে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, মানুষ এখন বিকল্প শক্তি হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকের দিকেই তাকিয়ে আছে। তাঁর মতে, জাতীয় পার্টির মূল লক্ষ্য ক্ষমতার মোহে নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা এবং জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করা।

মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, জেলা আহ্বায়ক মো. আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাকসহ জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুঝুঁকি ও লিবিয়ার ‘গেম ঘরে’ বন্দি বাংলাদেশিরা

‘দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে গণভোটে ‘না’ ভোট দিন’: রংপুরে জি এম কাদের

আপডেট সময় : ০১:২৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে একটি বিশেষ দলকে নির্বাচনি সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের ওপর ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর স্কাইভিউ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জি এম কাদের এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটে সরকারি ক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রভাব এবং নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মানুষকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এই গণভোটকে সংবিধানবহির্ভূত বলে দাবি করেন।

জি এম কাদের তাঁর বক্তব্যে আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, “যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট পাস করানো হয়, তাহলে জাতীয় সংসদ আর সার্বভৌম ও স্বাধীন থাকবে না। সংসদ তখন একটি নির্দিষ্ট শক্তির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তাই দেশ, গণতন্ত্র এবং সার্বভৌমত্ব বাঁচাতে জাতীয় পার্টি এই গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এটি কোনো দলীয় ইস্যু নয়, বরং দেশের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।” তিনি যেকোনো মূল্যে ‘না’ ভোটকে জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মাঠে নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, অথচ নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও নির্বাক হয়ে আছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ। কিন্তু বাস্তবে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে গিয়ে অন্য দলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে চাপে রাখা হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচন জনগণের কাছে কখনোই বিশ্বাসযোগ্য হবে না।”

জি এম কাদের আরও দাবি করেন, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও জাতীয় পার্টির পক্ষে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, মানুষ এখন বিকল্প শক্তি হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকের দিকেই তাকিয়ে আছে। তাঁর মতে, জাতীয় পার্টির মূল লক্ষ্য ক্ষমতার মোহে নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা এবং জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করা।

মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, জেলা আহ্বায়ক মো. আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাকসহ জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।