ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত রোববার বিকেলে লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা এবং ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘাতের ঘটনায় অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু যানবাহন ও নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।
লালমনিরহাট-১: বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হাতীবান্ধা লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর কর্মী- সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কাসাইটারী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর নারী কর্মীরা প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধানের সমর্থকরা বাধা দেন। এই নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা এক পর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন এবং ৪-৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা-১: আলমডাঙ্গায় প্রচারণায় বাধা, আহত ১৩ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জুগীরহুদা গ্রামে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেলের পক্ষে নারী কর্মীরা প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দিলে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে বিএনপির ৮ জন এবং জামায়াতের ৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর গ্রামটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ-১১: ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৩০ সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ভালুকায়। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন বাচ্চু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (সাবেক বিএনপি নেতা) মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। রোববার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ও হবিরবাড়ি এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লিফলেট বিতরণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত। সংঘর্ষ চলাকালে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের অফিসেও আগুন দেওয়া হয়। আগুনের ধোঁয়ায় চারপাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন, ফলে পুরো এলাকা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
নির্বাচনি এই সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
রিপোর্টারের নাম 

























