ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

উখিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত মসজিদ: খোলা আকাশের নিচে নামাজ পড়ছেন রোহিঙ্গা মুসল্লিরা

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি মসজিদ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। পবিত্র কুরআন শরিফ ও ধর্মীয় কিতাবসহ মসজিদের সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত মসজিদটি পুনর্নির্মাণে মানবিক সংস্থা ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পে বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি ঘরগুলো কাছাকাছি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের অসংখ্য বসতঘরের পাশাপাশি ২টি মসজিদ, ১০টি লার্নিং সেন্টার বা শিশু শিক্ষাকেন্দ্র এবং ১টি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা পরিবার গৃহহীন হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৬ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক-২ এলাকায় অবস্থিত পুড়ে যাওয়া মসজিদটি ছিল আশপাশের অন্তত ৮০টি পরিবারের দৈনন্দিন ইবাদত ও ধর্মীয় কার্যক্রমের একমাত্র কেন্দ্র। অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সহায়তায় অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ শুরু করলেও মসজিদটি সংস্কারে এখন পর্যন্ত কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি।

মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিনিধিদল মসজিদটি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

পুড়ে যাওয়া মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আমিন তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, “মসজিদটি হারিয়ে আমরা এখন খোলা জায়গায় নামাজ পড়তে বাধ্য হচ্ছি। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে এভাবে ইবাদত করা যেমন কষ্টকর, তেমনি মানসিকভাবেও এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মসজিদ কমিটির একার পক্ষে এটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব নয়।”

এমতাবস্থায় মসজিদের ইমাম ও পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মানবিক সংগঠন, দয়ালু ব্যক্তি এবং দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা যেন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে এই পবিত্র ইবাদতখানাটি পুনরায় গড়ে তুলতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সহায়তার মাধ্যমে মসজিদটি নির্মিত হলে তারা আবারও স্বাভাবিক পরিবেশে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত মসজিদ: খোলা আকাশের নিচে নামাজ পড়ছেন রোহিঙ্গা মুসল্লিরা

আপডেট সময় : ১১:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি মসজিদ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। পবিত্র কুরআন শরিফ ও ধর্মীয় কিতাবসহ মসজিদের সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত মসজিদটি পুনর্নির্মাণে মানবিক সংস্থা ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পে বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি ঘরগুলো কাছাকাছি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের অসংখ্য বসতঘরের পাশাপাশি ২টি মসজিদ, ১০টি লার্নিং সেন্টার বা শিশু শিক্ষাকেন্দ্র এবং ১টি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা পরিবার গৃহহীন হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৬ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক-২ এলাকায় অবস্থিত পুড়ে যাওয়া মসজিদটি ছিল আশপাশের অন্তত ৮০টি পরিবারের দৈনন্দিন ইবাদত ও ধর্মীয় কার্যক্রমের একমাত্র কেন্দ্র। অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সহায়তায় অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ শুরু করলেও মসজিদটি সংস্কারে এখন পর্যন্ত কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি।

মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিনিধিদল মসজিদটি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

পুড়ে যাওয়া মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আমিন তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, “মসজিদটি হারিয়ে আমরা এখন খোলা জায়গায় নামাজ পড়তে বাধ্য হচ্ছি। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে এভাবে ইবাদত করা যেমন কষ্টকর, তেমনি মানসিকভাবেও এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মসজিদ কমিটির একার পক্ষে এটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব নয়।”

এমতাবস্থায় মসজিদের ইমাম ও পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মানবিক সংগঠন, দয়ালু ব্যক্তি এবং দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা যেন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে এই পবিত্র ইবাদতখানাটি পুনরায় গড়ে তুলতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সহায়তার মাধ্যমে মসজিদটি নির্মিত হলে তারা আবারও স্বাভাবিক পরিবেশে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন।