চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির জনসমাবেশে ব্যতিক্রমী সাজে অংশ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মিরসরাইয়ের দুই বিএনপি কর্মী। মাথা থেকে পা পর্যন্ত ধানের শীষের প্রতীকী পোশাকে সজ্জিত হয়ে তারা দূর থেকেই সবার নজর কাড়েন এবং উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেন।
রোববার অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তাদের অভিনব উপস্থিতি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। অনেকেই তাদের সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা সমাবেশস্থলে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
ধানের শীষের সাজে সজ্জিত ওই দুই কর্মী হলেন মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম ও নেপাল চন্দ্র দাশ। তাদের এই প্রতীকী সাজ দল ও প্রতীকের প্রতি ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে।
মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সেলিম এ প্রসঙ্গে বলেন, “সাইদুল ও নেপাল দীর্ঘকাল ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে আসছেন। বিএনপির দুঃসময়ে তারা সবসময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। দল ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা থেকেই এমন ব্যতিক্রমী সাজে কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিএনপির বড় ধরনের কর্মসূচিতেই তাদের এমন রূপে দেখা যায়।”
নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নেপাল চন্দ্র দাশ বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। একসময় গ্রাম পুলিশের চাকরি করতাম। কিন্তু বিএনপি করার কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান আমাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেন। পরিবার নিয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করেছি, তবুও দলের আন্দোলন থেকে আমি কখনো পিছিয়ে যাইনি। ভবিষ্যতে দল ক্ষমতায় এলে সেই কষ্টের প্রতিদান মিলবে—এই বিশ্বাসই আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি।”
এদিকে, জনসমাবেশের পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একনজর দেখতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শত শত নেতাকর্মীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। রোববার দুপুরের পর থেকে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী যাওয়ার পথে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে এই অপেক্ষার দৃশ্য তৈরি হয়।
এ বিষয়ে মিরসরাই পৌরসভার বিএনপি কর্মী আলমগীর জানান, “দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সামনে থেকে দেখার স্বপ্ন ছিল। আজ সেই আশা নিয়েই চট্টগ্রাম থেকে ফেনী যাওয়ার পথে অপেক্ষা করছি। ইনশাআল্লাহ, দেখা হবে।”
রিপোর্টারের নাম 
























