ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ই-রিটার্ন: আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদ বলেছেন, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল (ই-রিটার্ন) কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি একটি আধুনিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, এই ব্যবস্থা কর প্রশাসনকে একদিকে যেমন সহজ ও স্বচ্ছ করে তুলেছে, তেমনি সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

রোববার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ‘লার্নিং সেশন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মরত ৯ম এবং তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ‘ব্যক্তি করদাতাগণের ইলেকট্রিক মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল’ বিষয়ক এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিলের গুরুত্ব ও পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের সহকারী কমিশনার একেএম মনিরুজ্জামান।

সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। এই দুটি মূলনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং তা ই-রিটার্ন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা একটি যুগোপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটা সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য চিহ্নিত করা সহজ হয়েছে। এর ফলে দুর্নীতির সুযোগ কমে এসেছে, যা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব উল্লেখ করেন যে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তারা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। তাদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, এটি একটি গভীর নৈতিক দায়িত্বও বটে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যেও কর প্রদানে আগ্রহ ও আস্থা বৃদ্ধি পাবে। যারা নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের কর প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা সমাজে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।

সালেহ আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ই-রিটার্ন দাখিল প্রকৃতপক্ষে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলে, যা পুরো কর ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নে এই শৃঙ্খলা অপরিহার্য, এ সত্য অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। ই-রিটার্ন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুফল হলো স্বচ্ছতা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দাখিলকৃত তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা প্রয়োজনে যাচাই করা সম্ভব।

সভায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) সালাহউদ্দিন নাগরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সকল আইন ও অধ্যাদেশ একত্রে সংকলনের বিষয়েও একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলার সূচি: আজ টিভিতে যেসব ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচ দেখা যাবে

ই-রিটার্ন: আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন

আপডেট সময় : ০৩:১০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদ বলেছেন, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল (ই-রিটার্ন) কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি একটি আধুনিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, এই ব্যবস্থা কর প্রশাসনকে একদিকে যেমন সহজ ও স্বচ্ছ করে তুলেছে, তেমনি সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

রোববার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ‘লার্নিং সেশন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মরত ৯ম এবং তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ‘ব্যক্তি করদাতাগণের ইলেকট্রিক মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল’ বিষয়ক এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিলের গুরুত্ব ও পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের সহকারী কমিশনার একেএম মনিরুজ্জামান।

সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। এই দুটি মূলনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং তা ই-রিটার্ন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা একটি যুগোপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটা সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য চিহ্নিত করা সহজ হয়েছে। এর ফলে দুর্নীতির সুযোগ কমে এসেছে, যা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব উল্লেখ করেন যে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তারা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। তাদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, এটি একটি গভীর নৈতিক দায়িত্বও বটে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যেও কর প্রদানে আগ্রহ ও আস্থা বৃদ্ধি পাবে। যারা নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের কর প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা সমাজে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।

সালেহ আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ই-রিটার্ন দাখিল প্রকৃতপক্ষে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলে, যা পুরো কর ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নে এই শৃঙ্খলা অপরিহার্য, এ সত্য অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। ই-রিটার্ন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুফল হলো স্বচ্ছতা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দাখিলকৃত তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা প্রয়োজনে যাচাই করা সম্ভব।

সভায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) সালাহউদ্দিন নাগরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সকল আইন ও অধ্যাদেশ একত্রে সংকলনের বিষয়েও একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।