দেশের বাজারে সোনার দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে কমানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আবারও বাড়ানো হয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। নতুন করে বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভালো মানের সোনার ভরি আড়াই লাখ টাকা ছাড়িয়ে এক অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ঘন ঘন দামের এই পরিবর্তনে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই দর নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার থেকে সারাদেশে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে এক ঘোষণায় সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার দুপুরে আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে, যা দেশের স্বর্ণের বাজারে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার বাজারে এমন টালমাটাল পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। দফায় দফায় দামের সমন্বয়ে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা অলঙ্কার কেনা থেকে পিছিয়ে আসছেন, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ ও বিক্রয় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তেজাবি সোনার দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। তবে দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টারের নাম 

























