সিলেটে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার খুলনায় সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি তারেক রহমানকে ‘বিলেত থেকে ফতোয়া’ প্রদানকারী হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। এর আগে তিনি ডুমুরিয়া উপজেলার আরাফাত আবাসিক প্রকল্প এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “একজন মুসলমান যিনি আল্লাহ, রাসুল, আখেরাত ও পরকালকে বিশ্বাস করেন, তাকে কাফের বলা যাবে না।” তিনি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, কেউ যদি এমন কথা বলে, তবে সেই কথা তার নিজের দিকেই ফিরে আসবে। অর্থাৎ, যিনি বলেছেন, তার জন্যই এটা প্রযোজ্য হবে। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল তারেক রহমানের মন্তব্যকে ‘বড় অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা ধারণা করেছিলাম, উনি বিদেশে গেছেন, লেখাপড়া করেছেন, কিছুটা রাজনৈতিক পরিপক্কতা হয়তো আছে। কিন্তু এখন দেখি, উনি বড় মুফতি হয়ে গেছেন। বিলেত থেকে ফিরে ফতোয়া দিচ্ছেন, কে মুশরিক আর কে কাফের।” তিনি আরও যোগ করেন, একজন মুসলমান অন্য একজন মুসলমানকে কাফের বলতে পারেন না, তার যত বড় অপরাধ বা গুনাহই থাক না কেন। এই বিষয়টি নিয়ে তারেক রহমানের আত্মসমালোচনা করা উচিত।
একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে তারেক রহমানের করা সমালোচনার জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া, যিনি আমাদের জোটনেত্রী ছিলেন; তাদের সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ ও কার্যক্রমের মধ্যেই তার প্রশ্নের জবাব আছে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৯ সালের সংসদে জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় এমন ১৫-১৬ জন সংসদ সদস্য ছিলেন, যারা অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। তিনি শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী এবং আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি করার উদাহরণ টেনে বলেন, তাদের সময়ে প্রচুর সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। “এই প্রশ্নের জবাব তারেক সাহেব তাদের কাছ থেকে নেবেন,” মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমান দুজনেই এই বিষয়টির সমাধান করে গেছেন। সবাইকে নিয়ে চলার জন্য শেখ মুজিব ‘ফর গিভ এন্ড ফর গেট’ নীতি নিয়েছিলেন।” এই পরিস্থিতিতে তার মনে পড়ছে সেই কথা, “সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গী।” তবে জামায়াত তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে কোনো চ্যালেঞ্জ মনে করছে না বলেও তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























