চরম অব্যবস্থাপনা ও নজিরবিহীন অনিয়মের কারণে দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে, এগুলোকে আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে আশার কথা হলো, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও সাধারণ বা ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেবে সরকার।
তালিকায় থাকা ৯টি প্রতিষ্ঠান হলো—ফাস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও বড় অংকের খেলাপি ঋণের ভারে এসব প্রতিষ্ঠান এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পুরো আর্থিক খাতে যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ ছিল, তার অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকাই ছিল এই ৯টি প্রতিষ্ঠানের দখলে। বর্তমানে এই ঋণের অংক আরও বেড়েছে।
আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে করা ব্যাপক লুটপাট ও কেলেঙ্কারির ফলেই এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত পিকে হালদার একাই পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি—এই চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন বা লিকুইডেশনের যৌক্তিকতা যাচাইয়ে শুনানি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সাতটি প্রতিষ্ঠানের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। শুনানিতে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায়ের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং খেলাপি ঋণের হার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি। এমন পরিস্থিতিতে এগুলো বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
তবে আমানতকারীদের সুরক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে সরকার কেবল সাধারণ ব্যক্তি আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থ পরিশোধ করবে। অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারী এবং অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা মেটানো হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে। মূলত সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতেই ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরতের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























