ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

টেক্সটাইল শিল্পে গভীর সংকট: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং মিল বন্ধের ঘোষণা বিটিএমএ’র

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে দেশের বস্ত্রশিল্প বর্তমানে চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দাবি করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এক কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব স্পিনিং মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। এসময় বিটিএমএ’র জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশের বস্ত্রশিল্প ইতোমধ্যে ‘স্টেট অব ইমার্জেন্সি’ বা জরুরি অবস্থার পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এই খাতের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ হলেও, সরকার শিল্পের সমস্যা সমাধানে ন্যূনতম সময় দিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাগুলোতে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার ফলে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

বিটিএমএ সভাপতি আরও হুঁশিয়ারি দেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মিল বন্ধ করা ছাড়া উদ্যোক্তাদের আর কোনো বিকল্প থাকবে না। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায় পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা দেশের আর্থিক খাতে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। এই সম্ভাব্য বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে, শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে তার দায়িত্বও রাষ্ট্রের ওপর বর্তাবে বলে জানান তিনি।

মালিকদের আর্থিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, উদ্যোক্তাদের মূলধন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ব্যাংক ঋণ পরিশোধের কোনো পথ খোলা নেই, এমনকি সব সম্পদ বিক্রি করেও দায় মেটানো সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে চলতি মাসেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এনবিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই অর্থবছরে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা স্থানীয় উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বিটিএমএ’র তথ্য মতে, বর্তমানে অধিকাংশ মিল উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি বড় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, আমদানি নির্ভরতা বাড়লে পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে, লিড টাইম দীর্ঘ হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

বিটিএমএ’র পক্ষ থেকে সরকারকে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো— সুতার ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ প্রণোদনা প্রদান, সেফগার্ড ডিউটি আরোপ এবং দ্রুত নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা। সংগঠনটির মতে, এসব উদ্যোগ ছাড়া বস্ত্র, তৈরি পোশাক ও আনুষঙ্গিক খাতকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

টেক্সটাইল শিল্পে গভীর সংকট: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং মিল বন্ধের ঘোষণা বিটিএমএ’র

আপডেট সময় : ০৭:২১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে দেশের বস্ত্রশিল্প বর্তমানে চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দাবি করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এক কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব স্পিনিং মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। এসময় বিটিএমএ’র জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশের বস্ত্রশিল্প ইতোমধ্যে ‘স্টেট অব ইমার্জেন্সি’ বা জরুরি অবস্থার পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এই খাতের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ হলেও, সরকার শিল্পের সমস্যা সমাধানে ন্যূনতম সময় দিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাগুলোতে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার ফলে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

বিটিএমএ সভাপতি আরও হুঁশিয়ারি দেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মিল বন্ধ করা ছাড়া উদ্যোক্তাদের আর কোনো বিকল্প থাকবে না। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায় পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা দেশের আর্থিক খাতে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। এই সম্ভাব্য বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে, শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে তার দায়িত্বও রাষ্ট্রের ওপর বর্তাবে বলে জানান তিনি।

মালিকদের আর্থিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, উদ্যোক্তাদের মূলধন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ব্যাংক ঋণ পরিশোধের কোনো পথ খোলা নেই, এমনকি সব সম্পদ বিক্রি করেও দায় মেটানো সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে চলতি মাসেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এনবিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই অর্থবছরে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা স্থানীয় উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বিটিএমএ’র তথ্য মতে, বর্তমানে অধিকাংশ মিল উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি বড় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, আমদানি নির্ভরতা বাড়লে পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে, লিড টাইম দীর্ঘ হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

বিটিএমএ’র পক্ষ থেকে সরকারকে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো— সুতার ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ প্রণোদনা প্রদান, সেফগার্ড ডিউটি আরোপ এবং দ্রুত নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা। সংগঠনটির মতে, এসব উদ্যোগ ছাড়া বস্ত্র, তৈরি পোশাক ও আনুষঙ্গিক খাতকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।